চলমান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় খুলনার একটি কলেজের কেন্দ্রে তুঘলকি কাণ্ড ঘটেছে। বাংলা দ্বিতীয়পত্র এবং ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষায় অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হয়েছে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্র কমিটি এর দায় থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লিখিত আবেদন জমা নিয়েছে। তবে নিয়মবহির্ভূত এমন ঘটনায় দৌলতপুর দিবা-নৈশ কলেজের সব পরীক্ষা কমিটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বুধবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির পরিবর্তনের বিষয়ে নিশ্চিত করেন কলেজটির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান।
জানা গেছে, খুলনার দৌলতপুর দিবা-নৈশ কলেজ কেন্দ্রে মাওলানা ভাসানী বিদ্যাপীঠ, মহেশ্বরপাশা শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয় এবং মহসিন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। ৪ জুলাই বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার দিন ২৫৩ জন পরীক্ষার্থীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ২৫০ জন পরীক্ষা দেন। ৬ জুলাই ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষার দিন ৩৮০ জন পরীক্ষার্থীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পরীক্ষা দেন ৩৭৩ জন। এর মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিল ২১৯ জন এবং অনিয়মিত ছিল ১৫৪ শিক্ষার্থী। এই দুদিনই অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র ছাড়া পরীক্ষা দিতে রাজি হচ্ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে নিয়মিতদের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ভেতরে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তারা জানান, কিছু কিছু অনিয়মিত শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে রাজি ছিল না। কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হয়।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কলেজটির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানকে সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ সদরুজ্জামানকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীর একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, কলেজ অধ্যক্ষের এমন গাফিলতি শিক্ষার্থীদের জীবনে সর্বনাশ বয়ে আনতে পারে। এসব শিক্ষার্থীর ফল খারাপ হলে দায় কে নেবে। পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আল সানিয়া যুগান্তরকে বলেন, বাংলা ও ইংরেজি পরীক্ষায় অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়েছে। এটি ইচ্ছা করে করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এটি করা হয়েছিল। যে ক’জন অনিয়মিত শিক্ষার্থী নিয়মিত প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে তাদের খাতা এবং তালিকা বোর্ডে আলাদাভাবে পাঠানো হয়েছে।
দৌলতপুর দিবা-নৈশ কলেজের অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান জানান, কিছু শিক্ষার্থী ২০২৫ সালে ফরম ফিলাপ না করে সরাসরি ২০২৬ সালের ফরম ফিলাপ করে। তারা নিজেদের নিয়মিত শিক্ষার্থীর দাবি করে হলের ভেতর হুলুস্থুল ঘটনা ঘটায়। বাধ্য হয়ে তাদের অনিয়মিত হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিতদের প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে।






