রাজশাহীতে বালুর দাম নির্ধারণ করেছে জেলা প্রশাসন। বর্ষা মৌসুমে নগরীর নির্ধারিত ডিপো থেকে সরবরাহ করা প্রতি ৭৫০ ‘সিএফটি’ বালুবাহী ট্রাকের মূল্য ৫ হাজার টাকা এবং গোদাগাড়ী ৫ মৌজা বালুমহাল থেকে সরাসরি সরবরাহ করা প্রতি ৭৫০ সিএফটি ট্রাক বালুর মূল্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘রাজশাহীতে সিন্ডিকেটের দাবি, বালুর দাম দ্বিগুণ-থমকে গেছে উন্নয়ন কাজ’ শিরোনামে ৬ জুলাই যুগান্তরে সংবাদ পেলে শুরু হয় তোলপাড়।
পরদিন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। রাজশাহীতে বালুর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নির্মাণ কাজ ব্যাহত হওয়ার কারণে ঠিকাদার এবং ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বালুর মূল্য নির্ধারণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় রাজশাহী পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, নৌপুলিশের প্রতিনিধি, পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী, বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি, রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সেক্রেটারি, রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহীর (রিডা) সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট ইজারাদাররা অংশ নেন।
সভায় একটি জাতীয় পত্রিকায় রাজশাহীতে বালুর উচ্চমূল্য-সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তারা জানান, পরিবহণব্যবস্থা সহজ করতে গোদাগাড়ীর বালুমহাল থেকে নৌপথে বালু এনে রাজশাহী নগরীর নির্ধারিত স্থানে মজুত করে সেখান থেকে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হলে পরিবহণ ব্যয় কমবে। এর ফলে সাধারণ মানুষও নির্ধারিত মূল্যে বালু পাবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে কোনোভাবেই বালুর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের নির্মাণ কাজ যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন নিয়মিত বাজার তদারকি করবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বালু বিক্রি, মজুতদারি কিংবা বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসন, ইজারাদার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বালুর বাজার স্থিতিশীল রাখা হবে। সভায় বালুর মূল্য নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ব্যবস্থা তদারকি এবং স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুটি উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি সিদ্ধান্তের সঠিক বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।






