লিওনেল মেসির অপার্থিব ক্রীড়া নৈপুণ্যের কারণে তাঁকে এলিয়েন লেভেলের মনে হচ্ছে আজকাল। আর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে কী খেয়ে এমন তেলেসমাতি কারবার করছেন তিনি!

মেসির অপার্থিব ক্রীড়া নৈপুণ্যের এক অনন্য প্রদর্শনী মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপকে। সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে। আবার আজও রেকর্ড করলেন ৭টি বিশ্বকাপে গোল দিয়ে। তার ওপরে এটি নাকি তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে, কী খেয়ে এমন তেলেসমাতি কারবার করছেন এই বয়সে মেসি? ফর্মুলাটা আসলে রকেট সায়েন্স বা ম্যাজিক না। ঐতিহ্যবাহী ঘরের খাবারই তাঁর পারফরম্যান্সের টেকসই ফুয়েল হিসেবে কাজ করে। আর লিওনেল মেসি কিন্তু  খাবারের ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনকভাবে বেশ সাধারণ ও সহজ চয়েসের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খাবারগুলো মূলত আর্জেন্টিনার ট্র্যাডিশনাল কুইজিনের অংশ। মেসির সবচেয়ে পছন্দের ১০টি খাবার ও পানীয়র কথা জেনে নিই চলুন এবারে।

১. মিলানেসা ও মিলানেসা নাপোলিতানা

এটি মেসির সবচেয়ে প্রিয় খাবার। পাতলা করে কাটা গরু বা মুরগির মাংস ব্রেডক্রাম্বে মুড়ে ভাজা হয়, তারপর এর ওপর টমেটো সস, হ্যাম এবং গলানো মোজ্জারেলা চিজ দেওয়া হয়।

মিলানেসা নাপোলিতানা মেসির সবচেয়ে প্রিয় খাবার
আর্জেন্টিনার সুপরিচিত ঐতিহ্যবাহী বারবিকিউ করা মাংসের পদ আসাদো

২. আসাদোআর্জেন্টিনার সুপরিচিত ঐতিহ্যবাহী বারবিকিউ করা মাংসের পদ এটি। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের গ্রিল করা মাংস খেতে মেসি খুব পছন্দ করেন।

৩. পাস্তা

স্প্যাগেটি ও অন্যান্য সব ধরনের পাস্তা তাঁর পছন্দের তালিকায় আছে। তিনি প্রায়ই অলিভ অয়েল, লবণ ও রসুন দিয়ে সহজ রেসিপিতে অথবা ফ্রেশ মারিনারা সসের সঙ্গে পাস্তা খেতে ভালোবাসেন।

স্প্যাগেটি ও অন্যান্য সব ধরনের পাস্তা তাঁর পছন্দের তালিকায় আছে

৪. দুলসে দে লেচে

এটি আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্যারামেল-জাতীয় মিষ্টি স্প্রেড। মেসির মিষ্টি খাওয়ার প্রতি বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে, আর এটি তাঁর অন্যতম প্রিয়।

৫. চকলেট

চকলেটও তাঁর অত্যন্ত পছন্দের একটি মিষ্টি খাবার। যদিও তিনি পরিমিত পরিমাণেই এটি খান।

৬. আইসক্রিম

আইসক্রিম মেসির খুব পছন্দের একটি ডেজার্ট, বিশেষ করে ভারী খাবারের পর তিনি এটি উপভোগ করেন।

৭. রুট ভেজিটেবলের সঙ্গে রোস্টেড চিকেন

এফসি বার্সেলোনায় খেলার সময় এটি ছিল তাঁর নিয়মিত খাবারগুলোর একটি। সাধারণত মুরগির সঙ্গে গাজর, আলু, পেঁয়াজ ও রসুন একসঙ্গে বেক করে এই খাবার তৈরি করা হয়।

এই বিশেষ পিৎজা অর্ডার করেছিলেন মেসি

৮. পিৎজা

যদিও এটি তাঁর স্ট্রিক্ট নিউট্রিশন প্ল্যানের অংশ নয়, তবুও মেসি পিৎজার বড় ভক্ত। একবার মায়ামির একটি স্থানীয় পিৎজারিয়ার পিৎজার ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার পর সেই রেস্টুরেন্টের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়ে গিয়েছিল।

৯. স্টেক

আর্জেন্টিনার চরে বেড়ানো, ফ্রি রেঞ্জ গ্রাস ফেড গরুর মাংস খেয়ে বড় হয়েছেন মেসি। তাই বিভিন্ন ধরনের স্টেক তাঁর খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

১০. মাতে

এটি খাবার নয়, বরং একটি পানীয়। দক্ষিণ আমেরিকার এই ঐতিহ্যবাহী, ক্যাফেইনসমৃদ্ধ ও হালকা তিক্ত হারবাল চা মেসির দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মেসির মাতে-প্রীতির কথা তো এখন সবাই জানে আর এ নিয়ে আলোচনাও হয় অনেক।

সূত্র ও ছবি: ইন্সটাগ্রাম