কিস্তিতে পণ্য কেনার পর দুই ক্রেতার আকস্মিক মৃত্যুতে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রয় ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন প্লাজা। প্রতিষ্ঠানটির ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা নীতির আওতায় সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের বকেয়া কিস্তির টাকা মওকুফের পাশাপাশি পরিবার দুটির প্রতিনিধিদের হাতে ১ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ তুলে দেয়া হয়েছে।
আকস্মিকভাবে মৃত্যু বরণকারী দুই কিস্তি ক্রেতা হলেন- ঢাকার খিলগাঁওয়ের মৌলভীরটেকের মেহেদি হাসান এবং সিলেটের জকিগঞ্জের কালিগঞ্জ বাজারের গৃহিণী মুক্তা বেগম।
শনিবার (২৮ আগস্ট, ২০২৬) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে সিপাহীবাগ ওয়ালটন প্লাজা শাখায় আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত কিস্তি ক্রেতা মেহেদি হাসানের মা গৃহিণী শাহনাজ আক্তার লাভলীর হাতে ৫০ হাজার ৬৩ টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেয়া হয়।
একই দিনে সিলেট জকিগঞ্জের কালিগঞ্জ বাজার ওয়ালটন প্লাজায় মৃত কিস্তি ক্রেতা মুক্তা বেগমের স্বামী সুহেল রানার হাতে ৫৩ হাজার ৪২০ টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেন ওয়ালটন প্লাজার কর্মকর্তাগণ। দুজনের ক্ষেত্রেই বকেয়া কিস্তির টাকা মওকুফ করা হয়।
পৃথকভাবে আয়োজিত দুটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের সিনিয়র ডেপুটি অপারেটিভ ডিরেক্টর নাহিদ হাসান, ডিভিশনাল ক্রেডিট ম্যানেজার শাকিল হোসাইন, ওয়ালটন প্লাজা-সিপাহীবাগ এর ম্যানেজার মাহামুদা আক্তার, রিজিওনাল ক্রেডিট ম্যানেজার তৌহিদ বিন মনোয়ার, কালিগঞ্জ বাজার ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজার হাসান আহমেদ উজ্জ্বল, কালিগঞ্জ বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন খান এবং জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি এনামুল হক মুন্নাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তিতে পণ্য কেনা ক্রেতাদের জন্য ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা নীতি’ চালু রয়েছে। এর আওতায়, কিস্তি চলাকালীন ক্রেতার মৃত্যু হলে পণ্যমূল্যের ভিত্তিতে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা এবং কিস্তি ক্রেতা পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুতে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। অনাদায়ী কিস্তি সমন্বয়ের পর অবশিষ্ট নগদ অর্থ সরাসরি ক্রেতা বা তার স্বজনদের হাতে তুলে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বে একমাত্র ওয়ালটন প্লাজাই কিস্তি ক্রেতা বা তার পরিবারের সদস্যের মৃত্যুতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ জুন রাজধানীর সিপাহীবাগ ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তিতে ৫৪ হাজার ৯৯০ টাকায় একটি টেলিভিশন কেনেন মেহেদি হাসান। মাত্র একটি কিস্তি পরিশোধ করার পরেই তিনি গত ৩০ জুলাই হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করেন। বকেয়া কিস্তির সমুদয় অর্থ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট নগদ অর্থ মৃত মেহেদি হাসানের মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়।
মৃত ক্রেতা মেহেদি হাসানের মা গৃহিণী শাহনাজ আক্তার লাভলী বলেন, পরিবারের বড় ছেলের মৃত্যুতে অসহায় অবস্থায় পড়ি আমরা। ওয়ালটন প্লাজার বকেয়া কিস্তি চালানোর অবস্থায় ছিলাম না। আমাদের বিপদের দিনে পাশে দাঁড়িয়েছে ওয়ালটন প্লাজা। বকেয়া কিস্তির টাকা মওকুফ করে আরও বাড়তি অর্থ সহায়তা দিয়েছে তারা। ওয়ালটন প্লাজাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
এদিকে সিলেট জকিগঞ্জের তিন সন্তানের মা মুক্তা বেগম চলতি বছরের ৩ মার্চ তারিখে কালিগঞ্জ বাজার ওয়ালটন প্লাজা থেকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৩৭ টাকা মূল্যের একটি ফ্রিজ কিস্তিতে নিয়েছিলেন। কয়েকটি কিস্তি পরিশোধ করার পর গত ৮ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে আকস্মিকভাবে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতেও স্বামী সুহেল রানার হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেয়া হয়।
মৃত ক্রেতা মুক্তা বেগমের স্বামী সুহেল রানা বলেন, কোনো কোম্পানি গ্রাহকের মৃত্যুর পর এভাবে কিস্তির টাকা মওকুফের পাশাপাশি নগদ অর্থ প্রদান করে, তা তার জানা ছিল না। তিনি ওয়ালটনের এ উদ্যোগকে মহৎ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন। ওয়ালটনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করার পাশাপাশি নিজের তিন সন্তানের জন্য এবং প্রয়াত স্ত্রীর জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।








