খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই অনেকের ক্ষুধা লেগে যায়।সারাক্ষণই কিছু না কিছু খেতে ইচ্ছা করে।অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক মনে করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন অবস্থাকে অনেক সময় ‘হিডেন হাঙ্গার’ বা লুকানো ক্ষুধার সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে দেখা হয়। অর্থাৎ, শরীর পর্যাপ্ত ক্যালরি পেলেও প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতির কারণে বারবার ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের সুস্থ কার্যক্রমের জন্য শুধু ভাত, রুটি বা ক্যালরিযুক্ত খাবারই যথেষ্ট নয়। আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন ডি, ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন অণুপুষ্টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর ঘাটতি থাকলে শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব পড়তে পারে।
ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে পুষ্টির ভূমিকা
ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণে শরীরের বিভিন্ন হরমোন কাজ করে। এর মধ্যে লেপটিন মস্তিষ্ককে জানায় যে শরীর পর্যাপ্ত খাবার পেয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি লেপটিনের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে তৃপ্তির অনুভূতি কম হতে পারে।
অস্বাভাবিক ক্ষুধা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতিতে কী হয়?
ম্যাগনেসিয়ামের অভাব সরাসরি সারাক্ষণ ক্ষুধা বাড়ায়- এমন প্রমাণ শক্ত নয়। তবে এর ঘাটতিতে অনেকের মিষ্টি, চকলেট বা উচ্চ-কার্বোহাইড্রেট খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে। পাশাপাশি অবসাদ, পেশিতে টান, ক্লান্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বি-ভিটামিনের অভাবেও বাড়তে পারে খাবারের চাহিদা
ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স শরীরে কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিনকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ভিটামিন বি১, বি৩, বি৬, বি৯ (ফোলেট) এবং বি১২-এর ঘাটতি থাকলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনেক সময় এই শক্তির ঘাটতিকে শরীর অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন হিসেবে প্রকাশ করে। ফলে বারবার ক্ষুধা লাগতে পারে।
আয়রনের ঘাটতিও হতে পারে কারণ
আয়রন শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া হতে পারে, যার ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং শক্তির অভাব দেখা দেয়। অনেক সময় শরীর দ্রুত শক্তির জন্য বেশি খাবারের চাহিদা অনুভব করতে পারে।
অন্য রোগের লক্ষণও হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্ষুধা লাগা শুধু পুষ্টির ঘাটতির কারণে নয়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, অতিসক্রিয় থাইরয়েড (হাইপারথাইরয়েডিজম) বা অন্যান্য বিপাকজনিত সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে। তাই বারবার এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন
কোন ভিটামিনের অভাবে বারবার মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করে
যা করবেন
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখুন। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম, শাকসবজি ও ফল নিয়মিত খেতে হবে। ভিটামিন ডি-এর জন্য সকালে কিছু সময় রোদে থাকুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
আরও পড়ুন
মর্নিং সিকনেসে ভুগছেন? স্বস্তি মিলবে এই উপায়ে
খাওয়ার পরও যদি নিয়মিত ক্ষুধা লাগে, তাহলে সেটিকে অবহেলা না করে কারণ খুঁজে বের করুন। কারণ অনেক সময়এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসমস্যার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে।
সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, হেলথলাইন, হিন্দুস্তান টাইমস
এসএকেওয়াই






