তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সাত দফা সুপারিশও করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় তদন্ত প্রতিবেদনটি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর কাছে জমা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিএমপির উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানান, তদন্তে ঘটনায় জড়িত দায়ী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে শুরুতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তাদের বাইরেও কয়েক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তদন্ত কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে বলেও জানালেন সিএমপি কমিশনার।
তথ্যমতে, ১২ জুন রাতে নগরীর লালখান বাজার মোড়ে অটোরিকশা থেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে আটক করে খুলশী থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। সেদিন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ম্যাচ খেলে বিমানযোগে চট্টগ্রামে এসে বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় চান্দগাঁওয়ের বাসায় ফিরছিলেন তিনি। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের ফোন এবং পরিবারের সদস্য ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তাঁকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন নাঈমের বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়ার বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন সিএমপি কমিশনার। একই ঘটনায় অভিযানে থাকা খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং খুলশী থানার ওসি আরিফ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।
এরপর উপপুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ১৮ জুন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও কমিশনার আরও চার কার্যদিবস সময় বাড়িয়ে দেন। সময় শেষে রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।








