পাকিস্তানের প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানির এক ফতোয়াকে ঘিরে দেশটির ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিটকয়েন, ইথেরিয়াম ও স্টেবলকয়েনসহ বিভিন্ন ক্রিপ্টো সম্পদে লেনদেন শরিয়াহসম্মত নয় বলে তিনি মত দেওয়ার পর পাকিস্তান ভার্চুয়াল অ্যাসেটস রেগুলেটরি অথোরিটি (পিভিএআরএ) বিষয়টি নিয়ে দেশের শীর্ষ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া দারুল উলুম করাচির কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—পিভিএআরএ-এর চেয়ারম্যান বিলাল বিন সাকিব জানিয়েছেন, ক্রিপ্টো সম্পদের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই উদ্যোগ নিয়েছে।
গত জুনে জামিয়া দারুল উলুম করাচি এক ধর্মীয় রায়ে জানায়, বর্তমান অবস্থায় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ সম্পদ বা ‘মাল’ হিসেবে গণ্য করা যায় না। ফলে এটি বৈধ বিনিময় মাধ্যম বা অর্থ প্রদানের উপায় হিসেবেও স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য নয়।
মুফতি তাকী উসমানি ইসলামি অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবশালী বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তাঁর ফতোয়া আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তাঁর এই অবস্থান পাকিস্তান ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির অন্তর্নিহিত বাস্তব মূল্য নেই এবং এগুলোর লেনদেনে অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা (গারার) ও জুয়াসদৃশ কল্পনানির্ভর লেনদেনের (মাইসির) উপাদান রয়েছে। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী সুদ, অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা ও জুয়ার বৈশিষ্ট্যযুক্ত আর্থিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়ায় এসব ডিজিটাল সম্পদে বিনিয়োগ বৈধ নয় বলে মত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই ধর্মীয় অবস্থান পাকিস্তান সরকারের ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রচেষ্টার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গত এক বছরে সরকার পাকিস্তান ক্রিপ্টো কাউন্সিল ও ভার্চুয়াল অ্যাসেটস রেগুলেটরি অথোরিটি গঠনসহ ভার্চুয়াল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। লক্ষ্য ছিল ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আর্থিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
যদিও পাকিস্তানে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এখনো আইনিভাবে নিষিদ্ধ নয়, তবুও ফতোয়ার পর পাকিস্তান, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বহু ধর্মপ্রাণ বিনিয়োগকারী তাঁদের ক্রিপ্টো সম্পদ বিক্রি করতে শুরু করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, বিশ্বের অন্যান্য ইসলামি প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের অবস্থান নিলে মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোতে ক্রিপ্টো বাজারে আরও বড় ধরনের বিক্রির চাপ তৈরি হতে পারে। তবে বৈশ্বিক ক্রিপ্টো বাজারে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার উল্লেখযোগ্য প্রভাব দেখা যায়নি।








