৯০ মিনিটের খেলা শেষে যোগকরা সময়ের ১৩ মিনিটে সমতায় ফেরার উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা ক্রোয়েশিয়া! খেলোয়াড়রা উল্লাসে দৌড়াচ্ছেন, গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন সমর্থকেরা। মনে হচ্ছিল, নাটকীয়ভাবে ২-২ সমতায় ফিরেছে দলটি, ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বদলে গেল সবকিছু।
ভিএআর মনিটরের সামনে দাঁড়িয়ে নরওয়েজিয়ান রেফারি এসপেন এসকাস বাতিল করে দিলেন সেই গোল। মুহূর্তেই উৎসব বদলে গেল হতাশায়, আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল পর্তুগাল। কিন্তু এটা কি আসলেই অফসাইড ছিল নাকি রোনালদোদের পক্ষে গেল রেফারির সিদ্ধান্ত?
এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ছিল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রিওন্ডা’-র ভেতরে বসানো অত্যাধুনিক মোশন সেন্সর। সাধারণ টেলিভিশন ক্যামেরায় যা প্রায় অসম্ভব ছিল ধরা, সেটিই মিলিসেকেন্ডের মধ্যে শনাক্ত করে এই প্রযুক্তি।
ঘটনাটি ঘটে ক্রোয়েশিয়ার শেষ আক্রমণে। ডি-বক্সে ভেসে আসা বলে ইগর মাতানোভিচ হেডের চেষ্টা করেন। খালি চোখে বোঝার উপায় ছিল না, বলটি আদৌ তার মাথা ছুঁয়েছিল কি না। কিন্তু বলের ভেতরের সেন্সর সঙ্গে সঙ্গে স্পর্শ শনাক্ত করে ভিএআর কক্ষে সংকেত পাঠায়। টিভি গ্রাফিক্সে বলের ডেটা লাইনে স্পষ্ট স্পাইক দেখা যায়, যা নিশ্চিত করে ওই মুহূর্তে বলে স্পর্শ লেগেছিল।
আর ঠিক সেই মুহূর্তেই জোসকো গাভার্দিওল অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। ফলে ভিএআর নিশ্চিত করে গোলটি বৈধ নয়। ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্ন ভেঙে যায়, পর্তুগাল পেয়ে যায় নকআউটের টিকিট।
ক্রিকেট মাঠে এর ব্যবহার প্রায় প্রতি ম্যাচেই দেখা যায়। বল ব্যাটে লেগেছে কি না সেটা যাচাই করতে স্নিকোমিটারের সাহায্য নেন থার্ড আম্পায়ার। চলতি বিশ্বকাপে ব্যবহৃত ‘ট্রিওন্ডা’ বলের প্রতিটি প্যানেলের ভেতরে বিশেষ মোশন সেন্সর স্থাপন করা হয়েছে। বলে কোনো খেলোয়াড়ের স্পর্শ লাগার সঙ্গে সঙ্গেই সেই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ভিএআর সিস্টেমে পৌঁছে যায়। এরপর সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নেওয়া হয় সিদ্ধান্ত।
এই প্রযুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্টেডিয়ামজুড়ে বসানো ১৬টি বিশেষ ক্যামেরা। ক্যামেরাগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার বল এবং প্রতিটি ফুটবলারের শরীরের ২৯টি করে ডেটা পয়েন্ট ট্র্যাক করে। বলের সেন্সর ও ক্যামেরার তথ্য একত্র করে তৈরি হয় নিখুঁত থ্রিডি অফসাইড অ্যানিমেশন, যা রেফারিকে দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
মজার বিষয় হলো, পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে এই প্রযুক্তিকে তিনবার হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। প্রথমার্ধে পর্তুগাল ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকার সময় অফসাইডের কারণে বাতিল হয় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর একটি গোল। পরে ১-১ সমতায় থাকা অবস্থায় অফসাইডে বাতিল হয় ক্রোয়েশিয়ার পেতার সুচিচের গোল। আর শেষ নাটকটি ঘটে গাভার্দিওলের গোলের সময়।
রাউন্ড অব থার্টিটুর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে রাউন্ড অব সিক্সটিনে জায়গা করে নিয়েছে পর্তুগাল। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।








