গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে দেশের কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তরে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কৃষিকে সনাতনী ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বের করে গবেষণা, উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই খাতে উন্নীত করতে সরকার বাস্তবমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।” 

তিনি জানান, ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণে কৃষক নিবন্ধন, কৃষক ডাটাবেজ, ডিজিটাল কৃষিসেবা, মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়ার তথ্য, বাজারদর, কৃষি পরামর্শ, ই-এক্সটেনশন সেবা এবং অনলাইন কৃষিসেবা প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষক কার্ড বিতরণের মাধ্যমে দেশের প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, “কৃষিতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ড্রোন, জিপিএস, স্যাটেলাইট তথ্য ও বিগ ডাটার ব্যবহার বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই শনাক্তকরণ, সুনির্দিষ্ট সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন পরিকল্পনা আরো কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক হবে।”

তিনি বলেন, “তথ্যনির্ভর প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার চালুর মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষি খাতকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের জন্য ‘খামারি অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। এ অ্যাপের মাধ্যমে কোন এলাকায় কোন সময়ে কোন ফসল উপযোগী, সারের প্রয়োজনীয়তা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন কৃষি পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে। রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈব সার, বায়োফার্টিলাইজার ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে জলবায়ু-স্মার্ট ও অভিযোজনক্ষম খাতে রূপান্তরের কার্যক্রমও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের ফলে দেশের কৃষি আরো উৎপাদনশীল, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও টেকসই হয়ে উঠবে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।