প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৬ হাজার ৫৩১ জনের মেধার ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

একই সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ বহাল রেখেছেন সর্বোচ্চ আদালত। এছাড়া রিটকারী ১৫১ জনকেও নিয়োগ দেওয়ার জন্য বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে করা আপিল আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন।

বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

 

আরও পড়ুন

তৃতীয় ধাপে প্রাথমিকের ৬৫৩১ শিক্ষকের নিয়োগ হাইকোর্টে বাতিল

তিনি বলেন, কোটার বিষয়ে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মেধার ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

এর আগে মুক্তিযোদ্ধা কোটার ভিত্তিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ ও পরীক্ষা এবং ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল।

২০২৩ সালের ১৪ জুন প্রাথমিকে তৃতীয় ধাপে শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরের বছর ৩১ অক্টোবর নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৬ হাজার ৫৩১ জন প্রার্থীকে নির্বাচন করা হয়।

পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৩১ অক্টোবরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৯ অনুসরণ করে উপজেলাভিত্তিক মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রার্থী নির্বাচন করে তালিকা প্রণয়ন করা হয়।

আরও পড়ুন

প্রাথমিকের ৩য় ধাপে উত্তীর্ণদের নিয়োগ বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল

 

 

এরপর ১১ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়োগ আদেশ সংবলিত নির্দেশনা জারি করে। এ সংক্রান্ত আদেশ অনুসারে নির্বাচিত প্রার্থীদের অনুকূলে ২০ নভেম্বর নিয়োগপত্র ইস্যু করার কথা ছিল। ওই নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা অনুসরণের অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রকাশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নিয়োগবঞ্চিতরা হাইকোর্ট রিট করেন।

রুলে ৩১ অক্টোবর ফলাফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ বিষয়ে ১১ নভেম্বরের নির্দেশনা-সংবলিত স্মারক কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহাপরিচালকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

এ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন। আদেশে নিয়োগ প্রক্রিয়া ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। ফলে ৬ হাজার ৫৩১ জন উত্তীর্ণ প্রার্থীর নিয়োগ আটকে যায়। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সেই রুলের ওপর রায় দেওয়া হয়।

এফএইচ/বিএ