কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতে পাশের বরুড়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ জুন ভোররাতে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজার এলাকায় একটি দোকানের সামনে ফুটপাতে ওই নারী ধর্ষণের শিকার হন। সেখানে ওই নারী ঘুমিয়ে ছিলেন।
এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ফুটেজ বিশ্লেষণের পর পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন ভোর ৪টা ৮ মিনিটের দিকে সাদা শার্ট ও লুঙ্গি পরা এক ব্যক্তি ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা ওই মধ্যবয়সী ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ওই নারী নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পরে বাজারের এক পাহারাদার ঘটনাস্থলে এসে ওই নারীকে দেখতে পান। জড়িত ব্যক্তির নাম খোকন ওরফে ল্যাংড়া খোকন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খোকন এলাকায় জুয়া পরিচালনার সঙ্গে জড়িত এবং চিহ্নিত জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে বিএনপির কর্মী হিসেবে তিনি পরিচিত। তবে দলে তাঁর কোনো পদ–পদবি নেই।
স্থানীয় বিএনপির এক নেতা জানান, খোকন দলের কোনো পদধারী নেতা নন, তিনি একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ওই নেতা বলেন, এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে এবং দলীয়ভাবেও খোকনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়ার পর ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকের জন্য অভিযান শুরু করেন। তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও রাত ৯টার দিকে বরুড়া উপজেলার ঝলম এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।








