উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরো ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও কক্সবাজারসহ দেশের ৯ অঞ্চলের উপর দিয়ে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস। দুপুর ১টা পর্যন্ত এসব নদী বন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, সমুদ্র বন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে পটুয়াখালীর পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকতে দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মাছধরা ট্রলার সমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে সংস্থাটি।
এদিকে, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। ছোট বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে। উপকূলীয় এলাকায় বাতাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। গত দুইদিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
আলিপুরের এফবি মা-বাবার দোয়া ট্রলারের মাঝি হোসেন মিয়া বলেন, “সমুদ্রে প্রচণ্ড ঢেউ। এ কারণে আমরা টিকতে না পেরে তীরে ফিরে এসেছি।”
তিনি বলেন, “ এ বছর সমুদ্রে তেমন মাছ পাচ্ছি না। এর মধ্যে এভাবে আবহাওয়া খারাপ হলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।”
ধুলাসার ইউনিয়নের এফবি কুয়াকাটা ট্রলারের মাঝি ফখরুল মিয়া বলেন, “সাগরে অনেক বড় বড় ঢেউ। আমরা শুক্রবার সকাল থেকে আশাখালী মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে নোঙর করে আছি। এভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমাদের আয় বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে।”
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, “লঘুচাপটি আরো ঘনভূত হতে পারে এবং সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। উপকূলে বৃষ্টিপাত বাড়তে এবং ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।”








