খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় জীবিত এক ব্যক্তিকে সরকারি নথিতে মৃত দেখিয়ে তাঁর বয়স্ক ভাতার কার্ড বাতিল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে ওই ইউনিয়নের সচিবকে অন্যত্র বদলিও করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রুহুল আমিন (স্থানীয়ভাবে আমিন মিয়া নামে পরিচিত) উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে নিয়মিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরকারি বয়স্ক ভাতার টাকা পেয়ে আসছিলেন। তবে গত নয় মাস ধরে ভাতার টাকা না পেয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তিনি জানতে পারেন, ২০২৪ সালে তাঁকে মৃত দেখানো হয়েছে। সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্মারক নম্বর ৪৬.০০.৪৬৭০.০৭৬.১৬.০০৬.২১, তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২৬
এর নথি অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া মৃত্যু নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে রুহুল আমিনের বয়স্ক ভাতার কার্ড স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা যায়, ওই প্রত্যয়নপত্রে তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ওসমান আলী এবং চার ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মজিদ, জমিলা বেগম, মো. বেলাল হোসেন ও মর্জিনা বেগমের স্বাক্ষর রয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হাজী এইচ এম হেলাল উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন ও ইউছুপ আলী বলেন, শুধু বয়স্ক ভাতা নয়, তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদিন এলাকায় চলাফেরা করেন এমন একজন মানুষকে মৃত ঘোষণা করা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সচিব মো. ওসমান আলী বলেন, গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনবার মৌখিকভাবে রুহুল আমিনকে ডাকা হয়েছিল। তিনি উপস্থিত না হওয়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী গ্রাম পুলিশ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মৃত্যু-সংক্রান্ত সনদ প্রস্তুত করা হয়।

ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। সমাজসেবা কার্যালয় তাদের অজান্তেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। তবে ইতোমধ্যে রুহুল আমিনের বয়স্ক ভাতা পুনর্বহালের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এলাকায় তাঁকে বেশির ভাগ মানুষ আমিন মিয়া নামে চেনেন, রুহুল আমিন নামে কম পরিচিত হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।’

মাটিরাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাশেদ বলেন, ‘বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।’

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, ‘ভুক্তভোগীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে গত ২৮ জুন স্থানীয় বাসিন্দারা তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ওসমান আলীকে সেখান থেকে বদলি করে মানিকছড়ি উপজেলার বাতনাতলী ইউনিয়নে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রবীর সুমন/কেজে/জেআইএম