রক্ষণে দেয়াল তুলে দাঁড়িয়েছিল প্যারাগুয়ে। দীর্ঘ সময় বলের নিয়ন্ত্রণে থেকেও সেই দেয়াল ভাঙার পথ খুঁজে পাচ্ছিল না ফ্রান্স। তবে বড় ম্যাচে বড় তারকারাই পার্থক্য গড়ে দেন, ফিলাডেলফিয়ায় সেটিই আবারও প্রমাণ করলেন কিলিয়ান এমবাপে। অধিনায়কের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় ফ্রান্স। এমবাপে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেকে ঠেকাতে প্রায় পুরো দল নিয়ে নিজেদের অর্ধেই অবস্থান নেয় প্যারাগুয়ে। বেশিরভাগ সময় ডি-বক্সের আশপাশে ঘন রক্ষণ সাজিয়ে ফরাসিদের আক্রমণের পথ আটকে রাখে তারা।
বল দখলে স্পষ্ট আধিপত্য থাকলেও প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ফ্রান্স। প্রথম ২৫ মিনিটে ৮০ শতাংশের বেশি সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও প্যারাগুয়ের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয় তারা। দূরপাল্লার একটি প্রচেষ্টা নেন মানু কোনে, তবে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
বিরতির আগে ফ্রান্সের সবচেয়ে ভালো সুযোগটি আসে ৩১তম মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে দেম্বেলের নিখুঁত ক্রস পেলেও প্রতিপক্ষের চাপে ঠিকমতো হেড করতে পারেননি এমবাপে। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি কিছুটা বদলে যায়। প্যারাগুয়ে কিছুটা ওপরে উঠে খেলতে শুরু করলে আক্রমণের জন্য আরও জায়গা পায় ফ্রান্স। ৫২তম মিনিটে গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁর লম্বা পাস ধরে দুরন্ত গতিতে একাই এগিয়ে যান এমবাপে। তবে শেষ মুহূর্তে দারুণ ট্যাকলে সম্ভাব্য গোল রুখে দেন ডিফেন্ডার কাসেরেস।
এর কিছুক্ষণ পর মানু কোনের দূরপাল্লার শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় এক হাতে ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওরলান্দো হিল। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুইবার নিশ্চিত বিপদ সামলে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি।
অবশেষে ৭০তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। দেজিরে দুয়ে ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলেও প্রথমে খেলা চালিয়ে দেন রেফারি। পরে ভিএআরের পরামর্শে সাইড মনিটরে রিপ্লে দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন তিনি। স্পট-কিক থেকে কোনো ভুল করেননি এমবাপে। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন অধিনায়ক।
পেনাল্টির সিদ্ধান্ত ঘিরে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের তীব্র আপত্তি দেখা যায়। মাঠে কয়েক দফা উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচের শেষভাগে শারীরিক লড়াই ও কঠিন ট্যাকলের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। তবে সব চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ধরে রাখে ফ্রান্স। শেষ বাঁশি বাজার আগেও আরও কয়েকবার গোলের খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন এমবাপে। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে এবং যোগ করা সময়ে তার দুটি জোরালো প্রচেষ্টা দুর্দান্ত সেভে ফিরিয়ে দেন ওরলান্দো হিল। নাহলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
পরিসংখ্যানেও ছিল ফ্রান্সের একচ্ছত্র আধিপত্য। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে ১৫টি শট নেয় দেশমের শিষ্যরা, যার পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে পুরো ম্যাচে মাত্র পাঁচটি শট নিতে পারে, লক্ষ্যভেদ করে একটি।
এই গোলের সুবাদে টুর্নামেন্টে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি আবারও শীর্ষে উঠে এসেছেন, যদিও সমান সাত গোল রয়েছে লিওনেল মেসিরও। বিশ্বকাপে এমবাপের মোট গোল এখন ১৯।
কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ মরক্কো। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই আফ্রিকান দলকে হারিয়েই ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। এবারও সেই পরিচিত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের অপেক্ষায় দেশমের দল।








