তীব্র গরম আর লোডশেডিংয়ের যৌথ দাপটে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অন্ধকার এবং মধ্যরাতের লোডশেডিং জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বর্তমানে এ সংকটের মূলে রয়েছে তেল, কয়লা ও গ্যাসের তীব্র ঘাটতি। আর এর সঙ্গে রয়েছে দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাব। ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে মধ্যরাতে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বাড়লেও তা মোকাবিলায় যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত দুই বছরের তুলনায় বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস ও তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২৪ বা ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের জুনে বিদ্যুৎ খাতে গড় গ্যাস সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯১ কোটি ১০ লাখ ঘনফুটে। যদিও সম্প্রতি বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক অতিরিক্ত ৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে এর ফলে শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক খাতে নতুন করে গ্যাস সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সংকটের গভীরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ধুঁকতে থাকা অবস্থা এবং পিডিবির বিশাল দেনার বোঝা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পিডিবির বকেয়া পাওনা এখন প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোই (আইপিপি) পাবে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই বিশাল বকেয়া জমে থাকার কারণে আইপিপিগুলো নতুন করে তেল আমদানির অর্থ জোগান দিতে পারছে না। ফলে দেশে প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৩টি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও জ্বালানির অভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অন্যদিকে মাতারবাড়ী বা এস আলমের মতো বড় কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলোও কয়লা সংকটের কারণে তাদের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না।
রামপালের নতুন ইউনিট চালু হওয়া বা সাময়িক গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে হয়তো সাময়িকভাবে কিছুটা সহনীয় করবে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান দেবে না। অথচ দরকার স্থায়ী সমাধান। এ লক্ষ্যে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা এবং সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে গরমের মৌসুমের জন্য আগাম সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ তৈরি করা জরুরি। অন্যথায় জনগণকে প্রতিবছরই জ্বালানি সংকট আর বিদ্যুৎবিভ্রাটের এই বৃত্তে ভোগান্তি পোহাতে হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।








