চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মাদক মামলার আসামি, তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতার বাড়িতে পুলিশ অভিযানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকনের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে তাঁকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এ ধরনের অভিযানে না যাওয়ার জন্য ধমক দিতে শোনা যায়। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জীবননগর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক টুটুল তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি। তাঁর বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা এবং জীবননগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফোনালাপে আনোয়ার হোসেন খান খোকনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আপনাকে ফোন দিলাম। শুনলাম, আমাদের কিছু ছেলেপেলেকে নিয়ে টুটুলের বাসায় গিয়েছিলেন, আইসি সাহেবও ছিলেন। এসব ছেলেপেলের প্ররোচনায় পড়বেন না। সে আওয়ামী লীগ করে, তাই বলে সে খারাপ—এমন কথা নয়। তবে আমাদের কিছু ছেলেপেলে আছে, যারা ধরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। যারা প্রকৃত বদমাশ, তাদের ধরেন, এতে আমার আপত্তি নেই। আর যদি ওসি সাহেব গিয়ে থাকেন, বলেন, আমি দেখছি।’
টুটুল সম্পর্কে জানতে চাইলে আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান বলেন, ‘টুটুলের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে যশোরের একটি পক্ষের সঙ্গে ফেনসিডিলের টাকা নিয়ে তাঁর বিরোধ হয়েছিল। এলাকায় তিনি মাদক কারবারি হিসেবেই পরিচিত।’
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, ‘টুটুলের বিরুদ্ধে যশোর থানায় একটি মাদক মামলা এবং জীবননগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা রয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সবাই তো খারাপ না। আমি পুলিশকে বলেছি আওয়ামী লীগের যারা নিরীহ আছে, তাদের হয়রানি না করতে। আর যার জন্য বলেছি, সে কোনো মাদক কারবারি না।’
এ সময় তিনি কল রেকর্ডটিকে অবান্তর বলে দাবি করেন।








