রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পুলিশের আয়োজনে মাদকমুক্ত গোদাগাড়ী থানা গড়তে কমিউনিটি পুলিশিং সভায় মাদক কারবারিদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ নিয়ে তোলপাড় চলছে। মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় অংশ নেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার আ.ন.ম বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহীর পুলিশ সুপার, ইউএনও ইসরাত জাহান, গোদাগাড়ী থানার ওসি আতিকুর রহমান ছাড়াও স্থানীয় সুধীজন ও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। মাদকবিরোধী এ সভায় সভাপতিত্ব করেন রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান নিজেই।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছে মাদকমুক্ত গোদাগাড়ী থানা গড়ার আলোচিত কমিউনিটি সভাটি। সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্থানীয় সুধীজন প্রশ্ন তোলেন, গোদাগাড়ীকে মাদকমুক্ত করতে যে সভাটি পুলিশ আয়োজন করেছে সেই সভাতেই দর্শকসারিতে দেখা গেছে বেশ কয়েকজন মাদককারবারীকে। এসব মাদক কারবারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকের মামলাও রয়েছে। আবার যারা সভাটিতে মাদক কারবারিদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাদের নিকটাত্মীয়সহ অনেকেই মাদকের কারবারে জড়িত। কেউবা মাদক কারবারিদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতার ভূমিকাও পালন করেন। গোদাগাড়ী নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, গোদাগাড়ীতে বড় বড় প্রোগ্রাম হয় মাদক কারবারীদের টাকায়। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের নেতারাও অনুষ্ঠানে তাদের কাছ থেকে টাকা নেন। অনেক কর্মকর্তা গোদাগাড়ীতে এসে টাকার কুমির হয়ে ফেরেন। এসব সবাই জানে। যারা অভিযোগ করছেন তারাও তুলসি ধুয়া তা নয়। তারা সবাই পরস্পর পরস্পরের স্বার্থের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আলোচিত এই সভার সভাপতি রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, গোদাগাড়ীর কমিউনিটি সভাটিতে অনেকেই এসেছিলেন। হয়তো কারও কারও বিরুদ্ধে মামলা আছে, বা জামিনে রয়েছেন। মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। তারা শুনেছেন। এতে যদি তাদের কেউ সংশোধন হয় সেটা কম কি।
আমরা তো মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদেরকে সংশোধন করতে চাই। এটা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন তারা সৎ উদ্দেশ্যে কথা বলছেন না। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও অনেকেই কথা বলছেন। পুলিশের এই মহতী উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করাটাও তাদের একটা লক্ষ্য।








