সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল বলেছেন, মাদক, দুর্নীতি ও বেকারত্ব বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাটোরের লালপুরে শ্রী সুন্দরী পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফারজানা শারমীন পুতুল। উপজেলা ও পৌর বিএনপি সমাবেশটির আয়োজন করে।

মাদকের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজের একটি অংশ মাদকাসক্ত হয়ে নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সন্তানরা কার সঙ্গে মিশছে এবং কী করছে, সেদিকে অভিভাবকদের নজর রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠা ও দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র যখনই লুণ্ঠিত হয়েছে এবং দেশকে গণতন্ত্রের পথ থেকে বিচ্যুত করা হয়েছে, তখনই বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসকে বারবার বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষক নিয়েও বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। তবে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের মানুষ যে কণ্ঠ শুনেছিলেন, তিনি ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ইতিহাসকে যতই বিকৃত করার চেষ্টা করা হোক, শেষ পর্যন্ত ইতিহাসই সত্যকে সামনে নিয়ে আসে।’

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, দেশে আবারও গণতন্ত্র লুণ্ঠিত হয়েছিল, মাফিয়াতন্ত্র বিস্তার লাভ করেছিল এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। তখনও বিএনপি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির হাত ধরে দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা আবার শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপিকে জনগণের দল হিসেবে উল্লেখ করে পুতুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের মানুষ ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে জানে। শত নিপীড়ন-নির্যাতনের পরও তিনি কারও কাছে মাথা নত করেননি। তিনি বলেছিলেন, ‘এ দেশ ছাড়া আমার কোনো দেশ নেই। এ দেশের মানুষ ছাড়া আমার কোনো আপনজন নেই।’

বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনে তাঁর পাশে থাকার কথা ছিল। কিন্তু নানা ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তবে তিনি দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের হৃদয়ে রয়েছেন। তাঁর আদর্শকে শক্তিতে পরিণত করে একটি মেরুদণ্ডসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কার্ড দেওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাল খননের কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে।

গত ছয় মাসে এসব কাজ শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃতভাবে কার্যক্রমগুলো মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলেও জানান তিনি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের স্কুলব্যাগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুস্থদের ভাতা, অসুস্থদের সহযোগিতা এবং প্রতিবন্ধীদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু ও হামিদুর রহমান বাবু।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ রঞ্জু, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল বারী বাবলা, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইটসহ স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।