চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদে কোরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবারের ঘটনার জের ধরে রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে উভয় পক্ষ পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলে মুখোমুখি অবস্থানের সৃষ্টি হয়। পরে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদের এক কক্ষ ভাড়া নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের উদ্যোগে শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে ‘তালিমুল কোরআন’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা সেখানে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, যথাযথ অনুমতি ছাড়া মডেল মসজিদে ধর্মীয় কর্মসূচির আড়ালে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। তাদের অভিযোগ, মডেল মসজিদ কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনার স্থান হতে পারে না।
অন্যদিকে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, এটি ছিল সম্পূর্ণ ধর্মীয় ও কোরআন শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। সব নিয়ম মেনেই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল এবং তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
আপিল বিভাগের রায় / ২৫ বছর পূরণ হওয়ার আগে পদত্যাগ করলে পেনশন পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা
ঘটনার একপর্যায়ে দুটি মাইক্রোবাস দ্রুত স্থান ত্যাগ করলে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, গাড়িগুলোতে অস্ত্র থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নারীদের নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
এ ঘটনার পর ‘জুলাই সনদ’ নামের এক ফেসবুক আইডি থেকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়াকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিএনপির অভিযোগ, ওই পোস্টটি শেয়ার করেন দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড শিবিরের সভাপতি সুমন। এরপর ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করেন। পরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
রোববার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন তার কার্যালয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের নিয়ে মীমাংসা বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি আবেদ উদ দৌলা টিটন শিবির নেতা সুমনকে মারধরের বিষয়টি উত্থাপন করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি হওয়ায় বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি।
পরে তালিমুল কোরআন প্রশিক্ষণে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখা দামুড়হুদা শহরে বাদ আসর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এ সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করেন। এর পাল্টা হিসেবে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও পৃথক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা শহরে অবস্থান নেন। এ সময় এক জামায়াত কর্মীসহ কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা শহরে উত্তেজনা বিরাজ করে।
আরও পড়ুন
নেত্রকোনায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালে ভাঙচুর
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বি এম তারিক-উজ-জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন আহম্মেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
পরে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবেদ উদ দৌলা টিটন নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এছাড়া প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়ার সঙ্গে কথা বলে উভয় পক্ষকে সরে যেতে অনুরোধ করে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, মডেল মসজিদ কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় হতে পারে না। ফেক আইডি ব্যবহার করে আমাদের নেতাকর্মীদের চরিত্রহননের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন বলেন, মডেল মসজিদ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির ভুল সিদ্ধান্তে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তাকে মৌখিকভাবে শোকজ করা হয়েছে। পরে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও হঠাৎ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
CHM
হুসাইন মালিক/কেএসআর








