দুদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলাই নদীর সীমান্তবর্তী মখাবিলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। ভেঙে গেছে কালভার্ট। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। জেলার প্রধান মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উজানের প্রবল স্রোতে ধলাই নদীর ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় বুধবার (৮ জুলাই) রাতে ভাঙন দেখা দেয়। নদীভাঙনের ফলে ইসলামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের মখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালায়েরবিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দের গাঁও, তেঁতইগাও, ভানুবিল ঘোরামারা গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এদিকে জেলার সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বেড়েছে। অব্যাহত বৃষ্টি হলে মনু ও ধলাই নদীর কয়েকটি ঝুকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মখাবিলে ভাঙন, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে কমলগঞ্জের মাধবপুর ভায়া শ্রীমঙ্গলে যাতায়াতের সড়কে নুরজাহান চা বাগানের গোয়াবাড়িতে একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। তলিয়ে গেছে আদমপুর-ইসলামপুর সড়ক।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯১ মিলিমিটার। বুধবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৭৯ মিলিমিটার এবং বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর ৬টা পর্যন্ত ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

মখাবিলে ভাঙন, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, পাহাড়ি ঢলে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। পানি নামলে বোঝা যাবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, টানা বৃষ্টি ও ধলাই নদীর ভাঙনে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে। বন্যা প্লাবিত এলাকায় শুকনা খাবার দেওয়া হচ্ছে। বন্যার বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ধলাই নদীর মখাবিলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’

মাহিদুল ইসলাম/এসআর/জেআইএম