টানা বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নদীপাড়ের কয়েক লাখ মানুষ চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন থেকে এরই মধ্যে জরুরি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টি আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, আজ সকাল ৯টায় পরশুরাম পয়েন্টে মুহুরী নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৬৬ মিটার, যা রাত ১২টায় ছিল ১০ দশমিক ৪০ মিটার। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৫৫ মিটার হলেও যে গতিতে পানি বাড়ছে, তাতে যেকোনো সময় তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, মুহুরী ও সিলোনীয়া নদীর পানি বাড়তে থাকায় বেড়িবাঁধের দুর্বল পয়েন্টগুলো নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।ফুলগাজীর বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘সবচেয়ে ভয় লাগে গভীর রাতে। কখন বাঁধ ভেঙে ঘরে পানি ঢুকে পড়ে, সেই আতঙ্কে চোখের পাতা এক করতে পারছি না।’পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত মঙ্গলবার জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘ত্রিপুরায় ভারী বর্ষণের কারণে আমাদের নদীগুলোর পানি বাড়ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করাসহ শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে।’ফেনী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা সার্বক্ষণিকভাবে বাঁধ ও পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জরুরি মেরামতের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
রাজনীতি
ফেনীতে তিন নদীর পানি বৃদ্ধি, বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত

শেয়ার করুন







