ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আজ উচ্চ আদালতের রায়ের পর সরোয়ার আলমগীরের শপথ নেওয়ার সব আইনি জটিলতার অবসান ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্রের বৈধতা বজায় রাখেন এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করেছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। সেই আপিলের শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সারোয়ার আলমগীর।

এরপর হাইকোর্ট এক আদেশে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তটি স্থগিত করেন এবং তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ জামায়াত প্রার্থীর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করলেও সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেন। তবে একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন, ঋণের রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই আসনের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল স্থগিত থাকবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। তবে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে এতদিন তাঁর গেজেট ও শপথ আটকে ছিল। অবশেষে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ হাইকোর্ট রায় দেওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা ও ভোটের ফলাফল সম্পূর্ণ বৈধতা পায়।

আদালতে আজ সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ট আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে লড়েন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারি। আদালত থেকে রায়ের কপি পাওয়ার পরপরই সংসদ সচিবালয় আজ সন্ধ্যায় তাঁর শপথের আয়োজন করে।