নেত্রকোনায় ধার করা টাকা ফেরত না দেওয়ায় কিশোর জাকির হোসেনকে হত্যার দায়ে মো. জনী (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মরিয়ম-মুন মুঞ্জুরী এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) এডভোকেট আবুল হাসেম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. জনী জেলা সদরের রাজুর বাজার এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।

নিহত জাকির হোসেনের বয়স ছিল ১৭ বছর। সে জেলা সদরের মঞ্জু মিয়ার ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর জাকির হোসেন মদন উপজেলার হাসনপুর এলাকায় আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে যায়। পরদিন সকালে তাকে বাড়ির উদ্দেশ্যে একটি টেম্পুতে তুলে দেওয়া হয়। তবে সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরদিন ১৭ অক্টোবর সকালে জেলা শহরের রাজুর বাজার এলাকার একটি ব্রয়লার খামারের পেছনের বিলে জাকিরের লাশ ভাসতে দেখা যায়। তখন তার গলায় পুরোনো নাইলনের রশি পেঁচানো ছিল।

ঘটনার পর নিহতের বাবা মঞ্জু মিয়া নেত্রকোনা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে পুলিশ মো. জনীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে জনী বলেন, জাকির তার কাছ থেকে ধার নেওয়া টাকা ফেরত না দেওয়ায় ক্ষোভ ও জেদের বশে তাকে হত্যা করে লাশ বিলের পানিতে ফেলে দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং মামলার অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।