টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সিরাজগঞ্জ শহরের রাস্তাঘাট। কোথাও হাঁটুপানি আবার কোথাও কোমরসমান। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরবাসী। জমে থাকা পানি নিষ্কাশনে জন্য পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে সরেজমিন শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

তাড়াশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে সিরাজগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।’

টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জ শহরে হাঁটুপানি

টানা বৃষ্টিতে অন্তত ১৫০টি পরিবারের বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে বলে জানান শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কোবদাসপাড়া মহল্লার বাসিন্দা আবু সেখ।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‌‘বৃষ্টি হলেই শুধু রাস্তাঘাট না, ঘরের মধ্যেও জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। আগেও বৃষ্টি হলে দুর্ভোগে পড়তাম, কিন্তু এক দিনেই পানি সরে যেত। এখন পানি বের হওয়ার কোনো পথই নেই।’

একই চিত্র দেখা গেছে শহরের হরিজন কলোনিতে। প্রায় ৮০টি পরিবারের ঘরে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ কেউ বালতি দিয়ে ঘরে প্রবেশ করা পানি অন্যত্র ফেলার চেষ্টা করছেন।

গোশালা এলাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ী রানা সেখ বলেন, ‘আগে বৃষ্টি হলে কলোনির পানি পুকুরে চলে যেত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ওই পুকুরটি ভরাট করে পৌর কাঁচাবাজারের ভবন নির্মাণ করায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।’

jagonews

তিনি বলেন, ‘রাস্তা ও ড্রেন উঁচু হওয়ায় বাড়িগুলো নিচু হয়ে গেছে। পানি বের হওয়ার পথ পাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে মশার উপদ্রব বাড়ছে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখার আহ্বায়ক দীপক কুমার কর জাগো নিউজকে বলেন, ‘জলাবদ্ধতার মূল কারণ শুধু অপর্যাপ্ত ড্রেন নয়; সঠিক পরিকল্পনার অভাব একটি বড় কারণ। গত কয়েক বছরে অনেক প্রাকৃতিক খাল সংকুচিত করে কংক্রিটের ড্রেনে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে পানির ধারণক্ষমতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ দুটোই কমে গেছে। একই সঙ্গে নদী ও খালের সঙ্গে শহরের নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকরভাবে সংযোগ করা হয়নি।’

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পৌর প্রশাসক শাহাদাত হুসেইন বলেন, ‘নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করছি। কিন্তু গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে আপাতত এই কাজ বন্ধ আছে। কারণ ড্রেন থেকে তোলা নরম কাদা মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আবার ড্রেনে চলে যাচ্ছে।’

আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু ও নদী-খালের সঙ্গে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকরভাবে সংযোগ করা না গেলে জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে না বলে তিনি দাবি করেন।

এম এ মালেক/এসআর/জেআইএম