স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “মানব পাচার, মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ভিয়েতনামের জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার (৮ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে  এ তথ্য জানানো হয়। 

বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করা, নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করতে আগ্রহী।” 

১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করেছে।”

বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী ও পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরো সহজ করার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, “দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ইতোমধ্যে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।” প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরিত হলে এ বাণিজ্য আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশি ওষুধ আমদানির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ভিয়েতনামের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বৈঠকে তিনি আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং আরসিইপির সদস্যপদ অর্জনে ভিয়েতনামের সমর্থনও কামনা করেন।

ভিয়েতনামের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয় এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আররো সম্প্রসারিত হবে।