নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেড়মাস ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদটি শূন্য। এর প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের কার্যক্রমে। দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আইভি ফেরদৌস পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়ে চলে যান। পরে সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. বাদল কুমার সাহাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের আর্থিক বিষয়ে ক্ষমতা নেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদল কুমার সাহার। এ কারণে চলতি বছরের জুন মাসের বেতন পাননি ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স মনিকা বলেন, ‘জুন মাসের বেতন এখনো পাইনি। চলতি মাসের বেতনও অনেকটা অনিশ্চিত। সংসারের ব্যয়, বাচ্চাদের লেখাপড়ার খরচসহ সব মিলিয়ে খুবই টানাপোড়েনে আছি।’

পরিসংখ্যানবিদ মশিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ডিডিওশিপ (আর্থিক ক্ষমতা) না থাকায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। যিনি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বরত আছেন, উনার ডিডিওশিপ নেই। এ কারণে দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বন্ধ রয়েছে। দ্রুত ডিডিওশিপ না এলে আগস্ট মাসের বেতনও যথারীতি পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. বাদল কুমার সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। খুব শিগগির এখানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আমাদের এই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহম্মদ মুশিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকার বিষয়টি ঢাকায় চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। আশা করি, এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

নাজমুল হুদা/এসআর