মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও খেলাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘স্প্ল্যাশ’ উদ্যোগ চালু করেছে ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশন।
এ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ ও উগান্ডার চার লাখ শিশু ও কিশোর-কিশোরী শিক্ষা, মানসিক সহায়তা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন
সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ প্রয়োজন
এসময় বক্তারা বলেন, সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও নানা মানবিক সংকটের মধ্যেও শিশুদের শেখা, বিকাশ ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন। এজন্য অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে বিশ্বে ৪৭ কোটি ৩০ লাখের বেশি শিশু সংঘাত ও মানবিক সংকটপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। এসব অঞ্চলে পাঁচ কোটি ২০ লাখের বেশি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে।
এই বাস্তবতায় ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের পাঁচ কোটি মার্কিন ডলারের অংশীদারত্ব শিশুদের শিক্ষা ও সার্বিক বিকাশে কাজ করবে।
আরও পড়ুন
শৈশবের ভালোবাসা এখন সফলতার সিঁড়ি
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার সুযোগ শিশুদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় যত্ন, সহায়তা ও সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দায়িত্বশীল ও নেতৃত্বদানে সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, খেলার ছলে শেখার পদ্ধতি শিশুদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক। সফল মডেলগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, টেকসই পরিবর্তনের জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।
‘স্প্ল্যাশ’ শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ, শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে বাস্তবায়িত প্রথম ধাপের এ উদ্যোগে শূন্য থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হবে।
এর মধ্যে রয়েছে প্রারম্ভিক শিক্ষা, বিদ্যালয়ে অংশগ্রহণে সহায়তা, জীবন দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও জীবিকায়নের সুযোগ সৃষ্টি।
আইএইচও/এএসএ







