সরকারি গ্রেজেট অনুযায়ী বেতন-ভাতা বাড়ানো এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি কারখানার শ্রমিকরা।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সংযোগ উথলী-পাটুরিয়া মহাসড়কের নবগ্রাম এলাকায় অবস্থান তালা তৈরি কারখানার শ্রমিকরা। ফলে সড়কের দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুর ১টার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন।
বিক্ষোভরত শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা সরকারি গেজেট অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও তাদের মজুরি সমন্বয় করা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন শ্রমিককে অন্যায়ভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে বলেও তাদের অভিযোগ। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তার দুর্ব্যবহার ও অশালীন আচরণে শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ। এসব সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই তারা সড়ক অবরোধে নেমেছেন বলে জানান।
কারখানার শ্রমিক, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার নবগ্রাম এলাকায় চীনা নাগরিকের মালিকানাধীন হার্ডওয়্যার ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের ওই কারখানায় চার শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। কারখানাটিতে তালা তৈরি করা হয়। আজ সকালে তিন শতাধিক শ্রমিক কারখানা থেকে বের হয়ে নবগ্রাম এলাকায় উথলী-পাটুরিয়া মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন। এরপর সকাল ১০টার দিকে তারা সড়ক অবরোধ করে সরকারি গেজেট অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
অবরোধের কারণে পাটুরিয়া ফেরিঘাটমুখী ও ঘাট থেকে ছেড়ে আসা বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকা পড়ে। কর্মস্থলগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী ও রোগী নিয়ে যাতায়াতকারী স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। অনেকে যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।
খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার এবং সাদিয়া সাবরিনা চৌধুরী ও শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরে যেতে বলেন। এরপরও শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে বেলা পৌনে ১টার দিকে যাত্রীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ তুলে নিয়ে পাশে অবস্থান নেন। এরপর যানবাহন চলাচল শুরু হয়। বেলা ১টার দিকেও শ্রমিকেরা মহাসড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন।
এ ব্যাপারে কারখানাটির সহাকারী ব্যবস্থাপক আল মামুন হোসেন বলেন, “বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে।”
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি). মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “সরকার নির্ধারিত বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। দাবি পূরণের আশ্বাসে শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে যান। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”








