মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহিরচর এলাকায় কবরস্থান ভরাটের কথা বলে নদীপাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কবরস্থানে নামমাত্র মাটি ফেলে অধিকাংশ মাটি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নদীতীরের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, চক্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বারাহিরচর এলাকার মো. ইসরাফিল হোসেন।
সোমবার (২৯ জুন) সরেজমিনে বারাহিরচর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বারাহি নতুন বাজার এলাকায় কয়েকটি দোকানের প্লট ভরাটে ব্যবহৃত হচ্ছে নদী থেকে কেটে আনা মাটি দিয়ে। বাজারসংলগ্ন কাঁচা সড়ক দিয়ে একের পর এক ট্রলি ও মাটিবাহী যানবাহন চলাচল করছে। পরে নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, একটি ভেকু দিয়ে নদীপাড় কেটে গাড়িতে মাটি তোলা হচ্ছে। এতে নদীতীরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা নদীর তীর রক্ষায় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নদীপাড় থেকে এভাবে মাটি কাটার কারণে তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে। এতে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. ইসরাফিল হোসেন বলেন, কবরস্থান ভরাটের জন্য এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি কিনে নেওয়া হয়েছিল। কিছুদিন আগে এসিল্যান্ডসহ কয়েকজন কর্মকর্তা এসে কবরস্থানের জন্য মাটি কাটার অনুমতি দিয়েছেন। আর মাটি কাটলে এলাকার অনেকেই মাটি চায়, তাই বাইরে কিছু মাটি দিতে হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন বলেন, রোববার সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হলেও মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে পাশের আটিগ্রাম এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। বারাহিরচর এলাকায় পুনরায় মাটি কাটার খবর পেলে সেখানে আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মো. সজল আলী/এনএইচআর/এএসএম








