১৯৮৮ সালের ৩ জুলাই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইরানের একটি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত হয়। এতে ২৯০ জন যাত্রী নিহত হয়। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সে ঘটনার ৩৮ বছর পূর্ণ হয়েছে।

ওই ঘটনাটিকে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। মার্কিন হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (ইরনা)।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ১৯৮৮ সালের ৩ জুলাই তেহরান থেকে দুবাইগামী ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫ মার্কিন হামলার কবলে পড়ে। পারস্য উপসাগরের আকাশে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ভিনসেনস থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানে থাকা ২৯০ জন আরোহীর সবাই নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন শিশু ছিল।
বাঘাই আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত যুদ্ধজাহাজের কমান্ডারকে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তীতে সামরিক সম্মাননা প্রদান করে যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও পরিহাসপূর্ণ।
তিনি বলেন, ফ্লাইট ৬৫৫–এর নিহতদের স্মৃতি ইরানে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘অমার্জনীয়’ কর্মকাণ্ড ইরান কখনো ভুলবে না।
প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।
কেএম








