চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছে ছেলে। এ ঘটনায় ছেলে জনিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে লাশ উদ্ধারের ৮ দিনের মাথায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৫ জুন সকালে উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড়ের একটি কলাবাগান থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সি অজ্ঞাত পরিচয় নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। চাঁদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে জানানো হয়-থানা পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোনের লোকেশন বিশ্লেষণ, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই এবং অনুসন্ধানের মাধ্যমে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর অর্ধগলিত লাশের পরিচয় শনাক্ত করার পর ছেলে মো. জনির ওপর সন্দেহ হলে তাকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে মাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জনি ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক নানা কারণে মায়ের প্রতি ক্ষোভ পুষে রেখেছিল। তার দাবি, মা একাধিক বিয়ে করায় সে বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ১৭ জুন জনি তার মা মজিদা বেগমকে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশায় কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর নিহতের মোবাইল ফোন কাছের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। পরে জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডসংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করে।
মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ সূত্রবিহীন। নিহতের পরিচয় বা কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, মামলাটি তদন্ত দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃত অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।







