নকআউটে টাইব্রেকারের প্রস্তুতি ব্রাজিলেরজাপান বলছে ‘বিশ্বকাপ জয় সম্ভব’
২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ার ক্ষত এখনও ভোলেনি ব্রাজিল। এবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জাপানের মুখোমুখি হওয়ার আগে সেই ইতিহাস মাথায় রেখেই সব ধরনের প্রস্তুতি সেরে রাখছেন সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলত্তি। হিউস্টনে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নকআউট যেহেতু, তাই নির্ধারিত ৯০ মিনিট ছাড়াও অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের মতো সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্যই তার দল প্রস্তুত। সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, "নকআউট ম্যাচে কী ঘটবে, তা আগে থেকে বলা যায় না। তাই সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। আগামীকালের (আজ) ম্যাচের জন্য শুধু football খেললেই হবে না, মানসিকভাবে এবং হৃদয় দিয়েও প্রস্তুত থাকতে হবে। নকআউট পর্বে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। খেলা অতিরিক্ত সময়ে যেতে পারে, টাইব্রেকারও হতে পারে। আমরা প্রতিটি দিক নিয়েই প্রস্তুতি নিয়েছি।" নিজের প্রথম বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচ নিয়ে অভিজ্ঞ এই ইতালিয়ান কোচ যোগ করেন, "দল প্রস্তুত, আত্মবিশ্বাসী এবং অনুপ্রাণিত। শেষ দুটি ম্যাচ আমরা ভালো খেলেছি। তাই আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, আমরা তার জন্য প্রস্তুত। এটি এমন একটি ম্যাচ, যেখানে হারলে আর ফিরে আসার সুযোগ নেই। এ কারণেই আমাদের আরও স্মার্ট হতে হবে। ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা এই ধরনের ম্যাচের গুরুত্ব বোঝে। আমি দলের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছি।" ম্যাচের শুরুর একাদশ নিয়ে কিছুটা রহস্য বজায় রেখে হাস্যরসের সুরে আনচেলত্তি বলেন, "আমি একাদশ এখনই বলে দিতে চাই না। আপনাদের একটু ভাবনায় রাখতে চাই। যে খেলোয়াড় খেলবে, সে জানে। আর যে খেলবে না, সে এখনও জানে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে কথা বলি। খেলোয়াড়রা নিশ্চিন্তে ঘুমায়, কোচের ঘুমই বরং কম হয়।" ব্রাজিলের দলে রাফিনহা চোটের কারণে থাকছেন না। তবে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারকে নিয়ে কোচ জানান, "নেইমার খুব ভালোভাবে উন্নতি করছে। গত এক সপ্তাহে তার অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পুরো ক্যাম্পজুড়ে সে অনুশীলন করতে পারেনি। তবে সে অবশ্যই ১৫ মিনিটের বেশি খেলতে পারবে। কতক্ষণ খেলবে, সেটা ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।" অন্যদিক, ‘এশিয়ার ব্রাজিল’ খ্যাত জাপানের শিবিরে বইছে ভিন্ন হাওয়া। দলটির প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে হুঙ্কার ছেড়েছেন বিশ্বকাপ জয়ের। সংবাদ সম্মেলনে নিজের দলের ওপর শতভাগ আস্থা রেখে মোরিয়াসু বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, ব্রাজিলকে হারানোর ক্ষমতা আমাদের আছে। এমনকি এই বিশ্বকাপ জিততেও পারি। সেই বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামব এবং ব্রাজিলকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে চাই। আমরা আমাদের নিজস্ব পরিচয় বা খেলার ধরন বদলাতে যাচ্ছি না। কারণ এটিই আমাদের গর্ব ও আত্মবিশ্বাসের উৎস। ভবিষ্যত প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। যদি কোনো ঘাটতি থেকে থাকে, তবে সেটা আমাদের কোনো দুর্বলতা নয়।" ফিফা র্যাংকিংয়ের ব্যবধান এবং নিজেদের আন্ডারডগ ভাবার বিষয়টি নিয়ে জাপানি কোচ আরও যোগ করেন, "ফিফা র্যাংকিংয়ে ব্রাজিল শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে জাপান সেই অবস্থানে নেই। সেই বিচারে দুই দলের মানের পার্থক্য রয়েছে। অনেকে হয়তো মনে করেন আমরা কেবল ভালো খেলছি; কিন্তু আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব। অবশ্যই, আমরা ব্রাজিলের কথা বলছি, যারা বিশ্ব র্যাংকিংয়ের অন্যতম শীর্ষ দল, আর অনেকেই হয়তো জাপানকে আন্ডারডগ বা দুর্বল প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন। প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমরা খেলব। তবে জয়ের দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে! যেমনটা গত বছরও ঘটেছিল। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে মানুষ যেন আমাদের এমন একটি দল হিসেবে দেখে যাদের জেতার সক্ষমতা রয়েছে।" ভ্রমণ ক্লান্তি এবং ব্রাজিলের চেয়ে একদিন কম বিশ্রাম পাওয়ার অসুবিধা নিয়ে মোরিয়াসু বলেন, "এই বিশ্বকাপে তিনটি দেশের মধ্যে প্রচুর যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। ব্রাজিল বিশ্রামের জন্য চারদিন সময় পেয়েছে৷ আর আমরা পেয়েছি তিনদিন। এটি আমাদের জন্য কিছুটা অসুবিধাজনক হলেও আমরা এ নিয়ে খুব একটা ভাবতে চাই না। কারণ আগে থেকেই আমরা এই পরিস্থিতির কথা জানতাম। সব খেলোয়াড়ই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছে। বিশ্রাম কিংবা অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা যতটা সম্ভব এই ক্লান্তি দূর করার চেষ্টা করেছি। সবাই এখন এই ম্যাচের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। আমার বিশ্বাস, আগামীকাল আমরা আমাদের সেরাটা দিতে পারব। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।" গত বছরের প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল জাপান। তবে এবার বিশ্বমঞ্চের এই মহালড়াইয়ে যে দলই জিতবে, কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হতে হবে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্টের।








