বিশ্বজুড়ে তিনি পরিচিত আরলিং হালান্ড নামেই। ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতেও ভক্তরা তার পিঠে দেখে অভ্যস্ত শুধু ‘Haaland’ লেখা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে মাঠে নেমে সবাইকে চমকে দেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার। তার জার্সিতে এবার লেখা ছিল ‘Braut Haaland’।

প্রথম দেখায় বিষয়টি অনেক সমর্থকের কাছেই বিস্ময়ের ছিল। কেন হঠাৎ জার্সিতে নতুন নাম? এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক আবেগঘন পারিবারিক গল্প।

হালান্ডের পূর্ণ নাম আরলিং ব্রাউট হালান্ড (Erling Braut Haaland)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি প্রায়ই নিজের পূর্ণ নাম ব্যবহার করেন। তাই বিশ্বকাপে জার্সিতে ‘Braut Haaland’ লেখার সিদ্ধান্ত ছিল নিজের পূর্ণ পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবারের প্রতি সম্মান জানানোর একটি বিশেষ উদ্যোগ।

‘হালান্ড’ পদবিটি তিনি পেয়েছেন তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ডের কাছ থেকে। আলফ-ইঙ্গে নিজেও একজন সাবেক পেশাদার ফুটবলার ছিলেন। অন্যদিকে ‘ব্রাউট’ এসেছে তার মা গ্রি মারিতা ব্রাউটের পরিবার থেকে। গ্রি মারিতা ছিলেন নরওয়ের একজন সফল অ্যাথলেট এবং হেপ্টাথলনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

জার্সিতে ‘Braut’ যুক্ত করার মাধ্যমে মূলত মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করেছেন নরওয়ের এই গোলমেশিন।

বিশ্বকাপে নরওয়ের প্রত্যাবর্তনও এবার স্মরণীয় হয়ে উঠেছে। ২৮ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ফিরে দলটির সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন আরলিং হালান্ড। ইতোমধ্যেই তিনি পাঁচটি গোল করে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তার চেয়ে বেশি গোল রয়েছে শুধু কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির।

তবে শুধু গোলসংখ্যাই নয়, ম্যাচে তার প্রভাবও আলাদা করে চোখে পড়ছে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ম্যাচে দীর্ঘ সময় প্রায় অদৃশ্য ছিলেন হালান্ড; কিন্তু ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের ক্রস থেকে এক ছোঁয়ায় বল জালে পাঠিয়ে নরওয়েকে মূল্যবান জয় এনে দেন তিনি।

সেই ম্যাচ আবারও প্রমাণ করেছে, পুরো ম্যাচ নীরব থাকলেও এক মুহূর্তেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে এই স্ট্রাইকারের।

এবার শেষ ষোলোতে নরওয়ের সামনে অপেক্ষা করছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সেই মহারণেও সব নজর থাকবে ‘ব্রাউট হালান্ড’-এর দিকেই, যিনি শুধু গোল করেই নয়, নিজের জার্সির মাধ্যমে পরিবারের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য বার্তাও পৌঁছে দিয়েছেন।

আইএইচএস/