চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের মতো তাঁর এই সমর্থনের পেছনে লিওনেল মেসির পায়ের জাদু কাজ করছে না। নেতানিয়াহু নিজেই জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা দলকে তাঁর সমর্থনের মূল কারণ দেশটির কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।

সম্প্রতি ইসরায়েলি কমেডিয়ান বেন বেন বারুচের উপস্থাপনায় জনপ্রিয় ‘দ্য মোজো পডকাস্ট’-এ অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে নেতানিয়াহু এই মন্তব্য করেন। তাঁর এই বক্তব্য ক্রীড়াঙ্গনে রাজনীতির সংযোগ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পডকাস্টে আলাপচারিতার একপর্যায়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রসঙ্গ উঠলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিজেই আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর সমর্থনের কথা জানান।

নেতানিয়াহু সঞ্চালককে প্রশ্ন করেন, ‘জানেন কেন আমি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলা খুঁজি?’ জবাবে সঞ্চালক যখন ফুটবলের বরপুত্র ‘মেসি?’-র নাম উচ্চারণ করেন, তখন তা সরাসরি নাকচ করে দেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘না, মেসির আগে মিলেই। তিনি একজন সুপারস্টার।’

আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের প্রশংসা করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি গ্রহণ করার মাধ্যমে তিনি একজন সত্যিকারের তারকায় পরিণত হয়েছেন। একই সঙ্গে মিলেই ইসরায়েলের একজন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু।’

আলাপচারিতার একপর্যায়ে নেতানিয়াহু কৌতুকের ছলে ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্টকে একজন ‘অভিজ্ঞ ফুটবল খেলোয়াড়’ হিসেবেও বর্ণনা করেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা যখন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নকআউট পর্বের ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এই মন্তব্য সামনে এলো। মাঠের লড়াইয়ে যখন সব আলো মেসি ও আর্জেন্টিনার ফুটবল কৌশলের ওপর, তখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য পুরো বিষয়টিকে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।

গত বছর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হাভিয়ের মিলেই প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রতি তাঁর জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করে আসছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই প্রকাশ্য সমর্থন মূলত মিলেইয়ের সেই বন্ধুত্বের প্রতিদান এবং দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন।

সাধারণত বিশ্বনেতারা কোনো দলের খেলার মান বা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখে সমর্থন জানালেও, নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেল। ফুটবলীয় নান্দনিকতার চেয়ে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক অংশীদারত্ব ও আদর্শিক মিলই তাঁর বিশ্বকাপ সমর্থনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।