২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মধ্যেই লিওনেল মেসিকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ব্যালন ডি'অরের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম একটি ব্যাখ্যামূলক নিবন্ধ প্রকাশ করে জানিয়ে দিয়েছে, ইউরোপের বাইরে কোনো ক্লাবে খেললেও ব্যালন ডি'অর জেতা সম্ভব। আর এ ঘোষণাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অনেকের মতে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার ঠিক একদিন পর এই ব্যাখ্যা প্রকাশ হওয়ায় সেটি যেন পরোক্ষভাবে ইন্টার মিয়ামিতে খেলা লিওনেল মেসিকেই ঘিরে দেওয়া একটি বার্তা।

মজার বিষয় হলো, ইউরোপের বাইরে কোনো ক্লাবের হয়ে খেলতে খেলতেই প্রথম ব্যালন ডি'অর জয়ের ইতিহাসও গড়েছিলেন লিওনেল মেসি। ২০২৩ সালে পিএসজি ছেড়ে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার কয়েক মাস পর তিনি ক্যারিয়ারের অষ্টম ব্যালন ডি'অর জেতেন। পুরুষদের ফুটবলে তিনিই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি ইউরোপের বাইরের একটি ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে এই সম্মান অর্জন করেন।

নারীদের মধ্যে এই কীর্তির পথিকৃৎ ছিলেন মেগান রাপিনো। তিনি ২০১৯ সালে সিয়াটল রেইনের হয়ে খেলতে খেলতেই ব্যালন ডি'অর জিতেছিলেন।

২০২৩ সালের পুরস্কারের মূল্যায়নে ২০২২ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। সে সময় ক্লাব পর্যায়ে মেসির মৌসুম খুব একটা আলোচিত না হলেও কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতান তিনি। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি করেন ৭ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট। একই সময় তিনি ফিফার দ্য বেস্ট পুরস্কারও জেতেন।

ব্যালন ডি'অরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ, ইউরোপের বাইরের কোনো ক্লাবে খেলেও ব্যালন ডি'অর জেতা পুরোপুরি সম্ভব। ইতিহাসের কারণে বিষয়টি কঠিন মনে হতে পারে; কিন্তু ইউরোপের বাইরের কয়েকটি লিগের শক্তি বাড়ার ফলে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ব্যালন ডি'অরে কিছুই অসম্ভব নয়। একজন খেলোয়াড় যে লিগেই খেলুক না কেন, প্রযুক্তিগতভাবে তার এই পুরস্কার জেতার সুযোগ রয়েছে।’

২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্স তাকে আবারও ব্যালন ডি'অরের অন্যতম দাবিদারে পরিণত করেছে। চলতি বিশ্বকাপে তিনি ৮ গোল করে কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন।

এছাড়া শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে জয়সূচক গোল এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লাউতারো মার্টিনেজের জয়সূচক গোলে অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতেও বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ব্যালন ডি'অর জিতেছিলেন পিএসজির ফরাসি তারকা ওসমান দেম্বেলে। অন্যদিকে ব্রাজিল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচবার এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতেছেন রোনালদো (১৯৯৭ ও ২০০২), রিভালদো (১৯৯৯), রোনালদিনহো (২০০৫) এবং কাকা (২০০৭)।

আরআর/আইএইচএস/কেএএ/