স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় যখন মাঠেই ভেঙে পড়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা, তখন প্রতিপক্ষের প্রতি ক্রীড়াসুলভ আচরণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল।

বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ এর ফাইনাল শেষে তিনি এগিয়ে গিয়ে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির পিঠে হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন। মুহূর্তটি স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ফাইনালে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে শিরোপা নিশ্চিত করে স্পেন।

শেষ বাঁশি বাজতেই স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা উল্লাসে মেতে ওঠেন। অন্যদিকে হতাশায় মাঠেই বসে পড়েন মেসিসহ আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন ফুটবলার। এমন আবেগঘন মুহূর্তে বিজয়োৎসবের মাঝেও প্রতিপক্ষের প্রতি সহমর্মিতা দেখান লামিন ইয়ামাল। তিনি মেসির কাছে গিয়ে তার পিঠে হাত বুলিয়ে সাহস জোগান এবং কয়েক মুহূর্ত কথা বলেন।

এই দৃশ্যটি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে দুই ফুটবলারের বহু বছর আগের একটি ঘটনার কারণে। ২০০৭ সালে বার্সেলোনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) একটি সচেতনতামূলক উদ্যোগে মাত্র ছয় মাস বয়সী লামিন ইয়ামালকে কোলে নিয়ে একটি ছবি তুলেছিলেন তৎকালীন তরুণ তারকা লিওনেল মেসি। সম্প্রতি স্পেনের ফাইনালে ওঠার পর সেই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়। অনেকেই ছবিটিকে ফুটবল ইতিহাসের এক বিরল স্মৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফাইনালের আগে ইয়ামালও মেসির বিপক্ষে খেলার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছিলেন। ছোটবেলায় যার কোলে উঠেছিলেন, সেই কিংবদন্তির বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলাই ছিল তার জন্য এক স্বপ্নের মুহূর্ত। ম্যাচ শেষে পরাজিত মেসিকে সান্ত্বনা জানিয়ে যেন সেই গল্পে যোগ হলো আরেকটি মানবিক অধ্যায়।

বিশ্ব ফুটবলের দুই প্রজন্মের দুই তারকার এই মুহূর্তটি অনেকের কাছে ফাইনালের অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য হয়ে ওঠে। মাঠের লড়াই শেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌজন্য ও মানবিকতার এই ছবি ফুটবলের সৌন্দর্যকেই নতুন করে তুলে ধরে।

এমইউ/এমএসএম