সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে নিখোঁজ এক শিশুর গলাকাটা মরদেহ ওয়ারড্রোবের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক এক সন্দেহভাজন নারীকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় কাজলা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
নিহত শিশুর নাম ফারজানা (৯)। সে ওই এলাকার এনামুল হকের মেয়ে এবং কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রাণ হারানো নারী সুমাইয়া ঝালমুড়ি বিক্রেতা এবং একই গ্রামের বাসিন্দা।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা সোমবার সকাল ৮টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। পরে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা স্কুলে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, সে সেখানে যায়নি। এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না মেলায় পুলিশকে জানানো হয়।
আরও পড়ুন
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নারী নিহত, আহত শিশু
পুলিশ পরে গ্রামে গিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। একপর্যায়ে কাশিবাটি গ্রামের সুমাইয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ঘরের ওয়ারড্রোবের নিচ থেকে শিশুটির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আটক সুমাইয়াকে ছিনিয়ে নেয় এবং গণপিটুনি দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে এসময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেয়। হামলায় তিনিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহসানুর রহমান/একিউএফ








