গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি পালানোর ঘটনায় জেলার শিরিন আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। দায়িত্ব পালনে গুরুতর অবহেলার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কারা-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রিম্পা (২১) পালিয়ে যান। ঘটনার পর কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে কারা অধিদপ্তর।

কারা অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেননি। তদন্তে তার দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি উঠে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর বিধান অনুযায়ী শিরিন আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি প্রচলিত সরকারি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া কয়েদি রিম্পাকে ঘটনার তিনদিন পর রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-২। রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে পুনরায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

জানা গেছে, রিম্পার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারা অধিদপ্তর তাৎক্ষণিক তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কারাগারের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কারা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো কঠোর করা হচ্ছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।