আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ার ইতোমধ্যেই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। আর ফিফা বিশ্বকাপে তার গৌরবময় যাত্রা যেন দিন দিন আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন মহাতারকা ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে (২০০৬-২০২৬) খেলার কীর্তি গড়েন। একই সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২১-এ নিয়ে গিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের রেকর্ড সৃষ্টি করেন এই কিংবদন্তী।
৩১টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে এবং টুর্নামেন্টে ২ হাজার ৪০০ মিনিটের বেশি সময় মাঠে থেকে সর্বাধিক ম্যাচ ও সর্বাধিক সময় খেলার রেকর্ডও এখন তার দখলে।
এর আগে চলতি আসরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে (৩৯ বছর) হ্যাটট্রিক করা ফুটবলারও হন তিনি। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১৫টি ম্যাচ খেলা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হয়ে যান মেসি।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে। সেবার শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নামলেও পরের কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি খেলেননি।
মেসির সবচেয়ে দীর্ঘ নকআউট যাত্রা ছিল ২০১৪ সালের ব্রাজিল এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে। দুটি আসরেই তিনি চারটি করে নকআউট ম্যাচ খেলেছিলেন। আগামী ১৫ জুলাই সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারলে এই রেকর্ড আরও বাড়িয়ে ১৬টি নকআউট ম্যাচে পৌঁছে যাবেন তিনি।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে হেডে আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটি করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ১০ম অ্যাসিস্ট করেন মেসি।
ফলে তিনি জার্মান কিংবদন্তি ফ্রিটজ ভাল্টারকে ছাড়িয়ে এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলে সহায়তাকারীর আসনে উঠে যান। ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের রেকর্ড বই নতুন করে লিখে চলেছেন। প্রতিটি ম্যাচেই যোগ করছেন নতুন নতুন কীর্তি, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে তার কিংবদন্তি ক্যারিয়ারকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
আরএএইচইউএল/আইএইচএস








