প্রবল বর্ষণে মীরসরাই উপজেলার কয়েকটি ঝরনা সম্প্রতি জলপ্রপাতময় দানবীয় ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় মীরসরাই-সীতাকুণ্ড এলাকার এসব ঝরনা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের ওপর বন বিভাগ কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায়, অতিউৎসাহী তরুণ যুবকরা ঝরনার মোহনীয় রূপ দেখার জন্য মানছে না কোনো বাধা। আবার ঝর্ণার প্রবেশপথ এলাকাতে নেই কোনো পুলিশি বা বনকর্মীদের বাধা। নেই কোনো নোটিশ বোর্ড। ইজারাদাররা বলছেন, আমরা বাধা দিলেও আমাদের সামনে দিয়ে না গিয়ে অন্য পথে যাচ্ছে এসব দর্শনার্থী। কেউ কেউ আমাদের সামনে দিয়েই জোর করে যাচ্ছে। আমাদের কাছে তো আইন প্রয়োগের কিছু নেই তাই আমরা চেয়ে চেয়ে দেখছি শুধু।
শুক্রবার এ অঞ্চলের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও জনপ্রিয় খৈয়াছরা ঝর্ণার প্রবেশ এলাকায় সরেজমিন গেলে দেখা যায়, স্থানীয় দোকানি ও সিএনজিচালক এবং ইজারাদারদের সঙ্গে ঝর্ণায় যাওয়ার জন্য আগন্তুক অনেকের বাগ্বিতণ্ডাও হচ্ছে। কেউ কেউ বাধা শুনে ফিরে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বাধা শুনছেন না। কুমিল্লা থেকে আসা দর্শনার্থী সাগর ও লুৎফুর রহমান বলেন, ‘এখানে আসার পর স্থানীয় দোকানি ও টিকিট কাউন্টারের লোকজন আমাদের নিষেধ করায় আমরা আর যাচ্ছি না।’
উল্লেখ্য, ফেসবুকে ‘জলপ্রপাতের দানবীয় সুন্দর’/ ‘খৈয়াছরা ঝর্ণার ভয়ংকর সুন্দর রূপ’/ ‘অসহ্য সুন্দর সুপ্তধারা’/ ‘হাতের কাছেই ভয়ংকর সব জলপ্রপাত দেখতে চলে আসুন’-আরও নানান অতি আবেগময় স্ট্যাটাস লিখে ব্যক্তিগত আইডি, বন্ধুদের গ্রুপ, ট্যুরিস্ট গ্রুপ আইডিতে প্রচারণাই উৎসাহিত করছে তরুণদের। অথচ জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে বিগত বছরগুলোতে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় অর্ধশত। গত বছরও ঝর্ণা থেকে ফিরে আসার পথে ছরায় পানি বেড়ে যাওয়ায় আটকে পড়া কিছু শিক্ষার্থীকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করে আনে। ঝর্ণার কূপে তলিয়ে যাওয়া কত মৃতদেহ ডুবুরি দিয়ে উদ্ধার করতে হয়েছে। কিন্তু কে শুনছে কার কথা।
এ বিষয়ে বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, বৃষ্টিপাত বন্ধ হওয়া পর্যস্ত ঝরনাগুলোতে পর্যটক প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে ইজারাদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও দর্শনার্থীদের ঝর্ণাগুলোতে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জেনেছি ইজাদারদের এবং আমাদের লোকদের কথা শুনছেন না তারা। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন আমাদের।’
মীরসরাইয়ের ইউএনও সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘আমি শিগ্গিরই ঝর্ণাগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ ট্যুরিস্ট পুলিশের মীরসরাই-সীতাকুণ্ড অঞ্চলের ইনচার্জ সৈকত রায় বলেন, আমাদের জনবল সীমিত, এই ক্যাম্পের জন্য কোনো গাড়িও নেই। তবুও আমরা ঝর্ণাগুলোর এলাকায় টহলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।







