টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। তীব্র গরমে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে রোববার (২৮ জুন) দুপুরে উপজেলার জামুর্কীতে পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশনের সামনে মহাসড়কে এই কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।

এ সময় বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা জামুর্কীতে অবস্থিত পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশন ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ, থানা পুলিশ ও জামুর্কী ইউপি চেয়ারম্যান ডি এ মতিন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত দুই মাস মির্জাপুরে ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে। শহর এলাকায় দিন-রাতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না। গ্রামের অবস্থা আরও ভয়াবহ। তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে উচ্চমাধ্যমিকের প্রায় ১০ হাজার পরীক্ষার্থী। জুলাইয়ের শুরুতে মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী। এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার খুদে শিক্ষার্থীর অবস্থাও একই।

জামুর্কী এলাকার আজিজুর রহমান বলেন, গত দুমাস আমরা দিন-রাত মিলে ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাই না। একদিকে তীব্র গরম আরেক দিকে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে আজ এই অবরোধ করেছে।

জামুর্কী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডি এ মতিন বলেন, বিভিন্ন এলাকায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা এবং গ্রাম এলাকায় আরও বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করেছিল। আমরা তাদের বুঝিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করিয়েছি।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মির্জাপুর জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, মির্জাপুরে বিদ্যুতের যে চাহিদা রয়েছে তা পাওয়া যাচ্ছে না। রোববার এই উপজেলায় চাহিদা ছিল ৪৮ মেগাওয়াট। পাওয়া গেছে ২৩ মেগাওয়াট। এ জন্য লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে।