কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর (৫৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় মামলাটি করেন। মামলায় পুলিশের হাতে আটক তিন ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন-বরগুনার বামনা উপজেলার হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার মো. মাহিন উদ্দিন (৩২) ও একই উপজেলার মো. শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা তিনজনই বর্তমানে আটক রয়েছেন।এদিকে গতকাল জুমার নামাজের পর মিঠামইন হেলিপ্যাড মাঠে জানাজা শেষে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় জাহিদুল আলমকে তার বাসার সামনে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।হামলার সময় জাহিদুলকে বাঁচাতে এগিয়ে এসে আহত হন হাদিস মিয়া নামের এক বিএনপি কর্মী। তিনি হামলাকারী হেলালকে জাপটে ধরে ফেলেন এবং পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বালিখলা বাজার থেকে মাহিন ও শাকিলকে আটক করে।পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা ঢাকা থেকে আসা ভাড়াটে খুনি। তাদের ভাড়া করে আনা হয়েছিল জাহিদুল আলমকে হত্যার জন্য। এদিকে আটক হেলালকে জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘খোকা’ নামের এক ব্যক্তি তাদের ভাড়া করেছেন।স্থানীয় সূত্র বলছে, ঘটনার পর থেকে মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোকাররম হোসেন খোকা আত্মগোপনে রয়েছেন। তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
রাজনীতি
মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হত্যার বিচার চেয়ে স্ত্রীর মামলা

শেয়ার করুন







