বরগুনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী নূরুজ্জামানকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শাশুড়ি ও দেবরকেও খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পাওয়া মো. নূরুজ্জামান পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের সতকর গ্রামের আবদুল হামিদ দর্জির ছেলে। খালাস পাওয়া অন্য দুজন হলেন মো. নুরুজ্জামানের ভাই মো. রিয়াজ ও মা মোসা. আরবজান।
ডেথ রেফারেন্স খারিজ এবং আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে মঙ্গলবার (৩০ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর এবং বিচারপতি মো. নুরুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মির্জা সালাহউদ্দিন আহমেদ ও মির্জা জিয়া উদ্দিন আহমেদ।
আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে শিশু হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাইকোর্টে খালাস
এর আগে বরগুনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী নূরুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার রায় দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত।
পাশাপাশি নিহতের দেবর ও শাশুড়িকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল বরগুনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
আরও পড়ুন
ঝালকাঠিতে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাইকোর্টে খালাস
মামলা সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার জ্ঞানপাড়া গ্রামের মো. রুস্তম আলী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ২০১০ সালের ২৫ আগস্ট ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
মামলার বিবরণীতে বাদী মো. রুস্তম আলী উল্লেখ করেন, তার মেয়ে নাদিরা আকতারকে ২০০৮ সালের ১০ অক্টোবর নূরুজ্জামানের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক দাবি করে নাদিরাকে নির্যাতন করতেন স্বামী ও তার পরিবারের অন্যরা। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করেও নাদিরা স্বামীর সংসার করছিলেন। ২০১০ সালের ১৯ আগস্ট দুপুরে অভিযুক্তরা নাদিরার কাছে আবারও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। নাদিরা যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে নূরুজ্জামান নাদিরাকে গলাটিপে হত্যা করেন। অন্য আসামিরা নাদিরার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে শয়ন কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখেন।
এফএইচ/এমএমকে








