মৃত্যুর প্রায় দেড় মাস পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরল ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের মধ্য ভাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. তুহিনুজ্জামানের (৩৪) মরদেহ।

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রায় দেড় বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দেওয়া এই প্রবাসীর স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত অপূর্ণই থেকে গেল। কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর পর দীর্ঘ প্রশাসনিক ও কনস্যুলার প্রক্রিয়া শেষে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছায়।

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে সৌদি আরবের হাইল শহরে গিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তুহিনুজ্জামান। একদিন কর্মস্থলে এসি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে গিয়ে ওপর থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রায় সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বাংলাদেশে ঈদুল আজহার আগের দিন (২৭ মে), সৌদি আরবে ঈদের দিন তিনি মারা যান।

মৃত্যুকালে তিনি বাবা-মা, স্ত্রী ফরিদা খাতুন, আট বছর বয়সী মেয়ে তাকিয়া খাতুন তামান্না ও দুই বছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ আল তাওসীফকে রেখে গেছেন।

দীর্ঘ প্রশাসনিক ও কনস্যুলার প্রক্রিয়া শেষে আজ সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তাঁর মরদেহ। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ গ্রহণ করেন তাঁর স্ত্রী ফরিদা খাতুন।

মরদেহবাহী কফিনটি সামনে আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্বামীর কফিন জড়িয়ে ধরে বারবার বিলাপ করতে থাকেন। এ সময় স্বজনদের হৃদয়বিদারক আহাজারিতে বিমানবন্দরের পরিবেশ মুহূর্তেই ভারী হয়ে ওঠে। উপস্থিত স্বজনদের পাশাপাশি অনেকেই অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে ফরিদা খাতুন বলেন, ‘মানুষটা বলেছিল, আর কয়েক বছর কষ্ট করলেই সংসারের সব অভাব দূর হবে। সন্তানদের জন্য সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ গড়বে। কিন্তু তা আর হলো না।’

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজ গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।