রংপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও তাদের ছেলে-মেয়েকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী যুবক মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বিরুদ্ধে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় এই দুই যুবক তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। কিন্তু দুই আসামির ডোপ টেস্ট করে শরীরে মাদকের উপস্থিতি মেলেনি বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
সোমবার (৩১ আগষ্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি এ তথ্য জানান।
এ সময় সনাতন চক্রবর্তী বলেন, রংপুর জেলগেট থেকে মুগ্ধ এবং সিদ্ধার্থের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনার বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেকনিশিয়ানরা আজ (সোমবার) ফলাফল জানিয়েছেন, তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি মেলেনি।
হত্যাকাণ্ডের ৮ দিন পর রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে ডিবি পুলিশের একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করে। এ সময় তাদের সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী ছিলেন।
গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জয়েল (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বেশ কয়েকজন সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য জবানবন্দি নিয়েছে আদালত।
পুলিশ জানায়, গণপতি চক্রবর্তী বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনকালে বাধা দেওয়ায় গলায় গামছা পিছিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর একে একে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী-মেয়ে ও ছেলেকেও একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ। তবে দুইজন যুবক ইয়াবা সেবন করে একটি বাড়ির চারজন মানুষকে কীভাবে হত্যা করতে পারে- এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে রংপুরে আন্দোলন চলছে।








