বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় টানা ছয় দিন ধরে সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ নৌপথে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর থেকে বুধবার পর্যন্ত সন্দ্বীপের সঙ্গে সব ধরনের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার-শনিবার কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে সীমিত পরিসরে স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল করলেও আবহাওয়ার আরও অবনতির কারণে পরবর্তীতে সেগুলোও বন্ধ হয়ে যায়।
এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন জরুরি চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে যেতে চাওয়া রোগীরা। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় অনেক প্রবাসী যাত্রীর ফ্লাইট মিস হয়েছে। এতে তাদের ছুটি ও ভিসার মেয়াদ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে সন্দ্বীপ চ্যানেলের বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে ফেরি কপোতাক্ষ চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
দীর্ঘ ৬ দিন ধরে ফেরিঘাটে আটকে থাকায় অনেক ট্রাকে থাকা কাঁচামাল ও পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত রেস্তোরাঁ, বিশ্রামাগার, ওয়াশরুম ও গোসলের ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা চালক ও শ্রমিকরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর এখনও উত্তাল রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে না। কবে নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি।
ফলে আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত সন্দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর এখনও উত্তাল। এতে সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবকিছু বন্ধ থাকবে। আগে মানুষের জীবন, তারপর সবকিছু।
এম মাঈন উদ্দিন/কেএইচকে/এএসএম








