মুরাদনগরে পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জিম্মি করে ভূতুড়ে বিল হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসে চলছে গ্রাহকদের পদে পদে হয়রানি। ওই কার্যালয়ের ডিজিএম থেকে শুরু করে নাইট গার্ড পর্যন্ত টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে না। সেখানে ন্যূনতম সেবা পেতে হলে দিতে হয় উৎকোচ। এদিকে কোম্পানীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের দীর্ঘদিনের অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ওই কার্যালয়ের অধীনে প্রায় দেড় লাখ গ্রাহক পদে পদে হয়রানি এবং ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

জানা যায়, ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, মিটার রিডিংয়ে অসংগতি, বিল সংশোধনে দীর্ঘসূত্রিতা, সংযোগ বিচ্ছিন্ন-স্থাপন, পার্শ্ব সংযোগসহ প্রতিটি পদে পদে চলে হয়রানি। এতে বছরের পর বছর এ কার্যালয়ে নাজেহাল হচ্ছে গ্রাহকরা। ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেক সময় প্রকৃত ব্যবহারের কয়েকগুণ বেশি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। অভিযোগ করেও মিলছে না সমাধান। অপেক্ষার পরও অনেককে ফিরতে হচ্ছে হতাশ হয়ে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মিটারে যে ইউনিট রয়েছে, বিলে তার সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায় না। আবার বিল সংশোধনের আবেদন করেও দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে। সমস্যার কথা জানাতে গেলে কাক্সিক্ষত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত মিটার রিডিংয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।

মহেশপুর এলাকার গ্রাহক আবুল কালাম বলেন, এখানে ডিজিএম থেকে শুরু করে দারোয়ান পর্যন্ত সবাই ঘুস খায়। টাকা দিলে সেবা মিলে অন্যথায় মিলে ভোগান্তি।

যাত্রাপুর এলাকার গ্রাহক ইমরান হোসেন বলেন, এক বছর যাবৎ মাত্রাতিরিক্ত বিল আসছে। দুটি লাইট দুটি ফ্যান চালিয়ে ২ হাজার টাকা বিল আসছে। তাদের কাছে গেলে পাত্তা পাওয়া যায় না। আবার সময়মতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। আমরা এখানে জিম্মি অবস্থায় আছি। রামপুর এলাকার গ্রাহক সহিদুল ইসলাম বলেন, টাকা দিলে পার্শ্ব সংযোগ চালানো যায়। যাদের কাছ থেকে টাকা পাবে না তাদের পার্শ্ব সংযোগগুলো কেটে দেয়।

পল্লী বিদ্যুতের সহকারী প্রকৌশলী ইয়াছিন মিয়া বলেন, আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করি যথাযথ সেবা দিতে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি অনিয়মে জড়িত থাকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান বলেন, কোনো সেবাপ্রত্যাশীর কাছ থেকে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া এসব অভিযোগের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে।