নাইজেরিয়ার লেক চাদ অববাহিকায় যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার ( ৩ জুলাই) আফ্রিকান চিফস অব ডিফেন্স কনফারেন্স-পরবর্তী এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইউএস এয়ার ফোর্সেস ইন ইউরোপ-এয়ার ফোর্সেস আফ্রিকার কমান্ডার জেনারেল ড্যাগভিন আর. এম. অ্যান্ডারসন এ ঘোষণা দিয়েছেন।

জেনারেল ড্যাগভিন আর. এম. অ্যান্ডারসন বলেন, অভিযানের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং এ মিশনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মার্কিন সেনা এরই মধ্যে নাইজেরিয়া ছেড়েছেন। তবে, নাইজেরিয়ার অনুরোধে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

অ্যান্ডারসন বলেন, আমরা ওই অভিযানে মোতায়েন করা অধিকাংশ সেনা প্রত্যাহার করেছি। তবে নাইজেরিয়ার অনুরোধ অনুযায়ী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং জটিল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, লেক চাদ অববাহিকার এই অভিযান শুধু ওই অঞ্চলের দেশগুলোকেই সহায়তা করেনি, বরং আইএস নেটওয়ার্ককে দুর্বল করার মাধ্যমে বৈশ্বিক নিরাপত্তাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

নাইজেরিয়াকে একটি সক্ষম নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটির শক্তিশালী অর্থনীতি, শিক্ষিত জনশক্তি এবং দক্ষ সামরিক বাহিনী রয়েছে। দুই দেশের সহযোগিতায় আইএসের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

অ্যান্ডারসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্য এবং নাইজেরিয়ার সামরিক অভিযানের সমন্বয়ে বৈশ্বিক আইএস নেটওয়ার্কের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতাকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও অংশীদার দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশেষায়িত সক্ষমতা ও গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করবে।

একই সঙ্গে আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সন্ত্রাসবাদ, অবৈধ পাচার এবং আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় আরও জোরালো গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের আহ্বান জানান তিনি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ২০০ সেনা নাইজেরিয়ায় মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দায়িত্ব ছিল লেক চাদ অববাহিকায় গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহায়তা করা। ওই অঞ্চলে এখনও আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখা (ISWAP) এবং বোকো হারামের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে।

লেক চাদ অঞ্চলটি নাইজেরিয়া, নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনজুড়ে বিস্তৃত। এ অঞ্চলে উগ্রপন্থি সহিংসতা দমনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলমান জঙ্গি তৎপরতায় কয়েক দশক ধরে সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে।

সূত্র: দ্য হিল/ আনাদোলু এজেন্সি
কেএম