জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি শরীফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-
বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় কিছুটা পিছিয়ে আছে-এমন অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
হ্যাঁ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দিক থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয় কিছুটা পিছিয়ে আছে-এ বিষয়ে আমি আংশিকভাবে একমত। আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, এখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বেসিক সাবজেক্ট যেগুলো, সেগুলো এখানে অবহেলিত, যা একটি বড় ঘাটতি হিসাবে দেখা দিয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, জীববিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে সিএসই ও ইইই বিভাগে গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক বাইরে থেকে এনে ক্লাস করাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বেসিক সায়েন্সের নতুন বিভাগ চালু অত্যাবশ্যক। আমরা ইতোমধ্যে ফার্মেসি বিভাগ চালুর অনুমোদন পেয়েছি। শিগগিরই শিক্ষকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত একাডেমিক পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করতে আপনার নীতি কী হবে?
শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়াটি হবে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে। একজন ভালো শিক্ষক হওয়ার জন্য শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়, বরং তার যোগাযোগ দক্ষতা, উপস্থাপনা, সৃজনশীলতা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সক্ষমতাও জরুরি। লেকচারার নিয়োগে প্রার্থীদের একাডেমিক যোগ্যতাকে একটি মানদণ্ড হিসাবে বিবেচনা করা হবে। এরপর ওরাল ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তাদের পাঠদান দক্ষতা, ক্লাস নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের উপযোগী লেকচার দেওয়ার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে। সবশেষে ভাইভার মাধ্যমে সর্বোচ্চ যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার পাশাপাশি কো-কারিকুলাম কার্যক্রম ও সামগ্রিক দক্ষতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের আবাসন, ডাইনিং, পরিবহণ এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে আপনার প্রশাসনের কী কী পরিকল্পনা থাকবে?
এই সংকটগুলো আসলে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কমবেশি রয়েছে। তবে এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আবাসনের ক্ষেত্রে বর্তমানে নির্মাণাধীন দুটি হলো ডিসেম্বরের মধ্যে হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঠিকাদারদের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের পর কোনো সময় বাড়ানো হবে না বলে জানানো হয়েছে। চিকিৎসাসেবার বর্তমানে চারজন মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জটিল রোগীদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। ভবিষ্যতে এসব হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিশেষ সুবিধা ও ছাড় পেতে পারে।
ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং জনবল বৃদ্ধির আশ্বাস পাওয়া গেছে।
আপনি উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব শেষে বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চান?
আমার স্বপ্ন হলো বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। শুধু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা নয়, বরং একটি শিক্ষাবান্ধব ও মানসম্মত একাডেমিক পরিবেশ তৈরি করা। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত, যিনি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। আমরাও চাই, এই বিশ্ববিদ্যালয় তার নামের মতোই আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত হোক; এটাই আমার প্রত্যাশা।








