ভারত সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জেলা শেরপুরে মানুষ ও বন্যহাতির সংঘাত নিরসনে এবং জানমালের সুরক্ষায় উচ্চপর্যায়ের একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বন্যহাতির চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আগাম সতর্ক করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর আগাম শনাক্তকরণ যন্ত্র (আর্লি ডিটেকশন ডিভাইস) স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

গতকাল শনিবার বিকেলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কের মহুয়া রেস্ট হাউস মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের কমিউনিটি গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট আবরার আহমাদ। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিম, জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক, নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক সাদেক আলী খান, রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী প্রমুখ।

সেমিনারে বন্যহাতির চলাচল পর্যবেক্ষণ, সংঘাত কমানো এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে গহিন বনে এআই প্রযুক্তিনির্ভর আর্লি ডিটেকশন ডিভাইস (ক্যামেরা) স্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী বলেন, মানুষ ও বন্যহাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সময়ের দাবি। তিনি জানান, প্রথম ধাপে নালিতাবাড়ীর বন্যহাতি উপদ্রুত এলাকায় ১৫টি এআই প্রযুক্তিনির্ভর আর্লি ডিটেকশন ডিভাইস স্থাপন করা হবে। এসব ডিভাইসের মাধ্যমে হাতির গতিবিধি শনাক্ত করে দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা সম্ভব হবে। এতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।